‘দুই নৌকায় পা দিলে একটা ডুববেই’: রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দেবশ্রী রায়, নতুন সরকারকে ঘিরে আশাবাদী অভিনেত্রী

‘দুই নৌকায় পা দিলে একটা ডুববেই’: রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক দেবশ্রী রায়, নতুন সরকারকে ঘিরে আশাবাদী অভিনেত্রী

বিনোদন ও রাজনীতির অন্দরে এক বড়সড় বিতর্ক উসকে দিলেন প্রবীণ অভিনেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক দেবশ্রী রায়। দীর্ঘ পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে বহু কালজয়ী ছবি উপহার দিলেও, গত ১০ বছরে রূপোলি পর্দা থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছিলেন তিনি। ২০২৬ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে সেই অন্তরালে থাকার মূল কারণ এবং নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— অভিনয় এবং রাজনীতি, দুই নৌকায় একসঙ্গে পা দিয়ে চলতে গেলে যে কোনও একটা দিক ডুববেই।

রাজনীতি বনাম অভিনয়: নিজের অভিজ্ঞতা থেকে উপলব্ধি

১৯৬৬ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জগতে পা রাখা দেবশ্রী রায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে, তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে। রায়দিঘি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরপর দু’বার (২০১১ ও ২০১৬) বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট না দেওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার খেসারত যে তাঁর অভিনয় জীবনকে দিতে হয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করে দেবশ্রী বলেন:

“রাজনীতি করতে গিয়ে আমার অভিনয়ের দিকটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। টলিউডের অনেককেই দেখেছি, একে একে সবাই রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আমি উপলব্ধি করেছি, রাজনীতি করতে চাইলে সেটাতেই মন দেওয়া উচিত, আর অভিনয় করলে নিজের অভিনয়সত্তার দিকে মন দেওয়া দরকার। আমি নিজে বেশি মন দিতে গিয়েছিলাম রাজনীতিতে, তাই আমার অভিনয়ে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছিল।”

“গত ১৫ বছরে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ শেষ হয়ে গিয়েছে”

টলিউডের বর্তমান অবস্থা এবং ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের দলাদলি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জাতীয় পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী। স্বরূপ বিশ্বাস কিংবা ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের নানা কোন্দল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে গেলে কিছু সৎ মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”

একদা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা দেবশ্রী রাজ্যের বিগত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন। দল ছাড়ার প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন:

“গত ১৫ বছরে যে কলকাতা দেখেছি, আমার রাজ্যকে আগে এইভাবে কখনও দেখিনি। আমি দল করেছি, কিন্তু সেখানে বলেও কোনও লাভ হতো না। অযোগ্য মানুষকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দিলে সমস্যা তো তৈরি হবেই। চরম হতাশ ও বিরক্ত হয়েই আমি দল ছেড়েছিলাম। মাঝেমধ্যে লজ্জা করে বলতে যে, আমি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।”

অবশ্য রাজনৈতিক কাদা-ছোড়াছুড়ি বা টলিউডের সাম্প্রতিক ‘ব্যান’ সংস্কৃতির মতো কোনও বিতর্কে নিজেকে কখনও জড়াতে দেননি এই প্রবীণ অভিনেত্রী।

নতুন সরকারের কাছে টলিউড পুনরুজ্জীবনের আশা

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশার আলো দেখছেন দেবশ্রী রায়। টলিউডের নতুন শাসক শিবিরের জনপ্রতিনিধিদের ওপর আস্থা রেখে তিনি জানান, বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং পাপিয়ার অধিকারীর মতো ব্যক্তিত্বরা চলচ্চিত্র জগতের সামগ্রিক উন্নতির জন্য আগামী দিনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.