অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজ়ে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন মাঠে মেজাজ হারিয়ে শাস্তির মুখে পড়তে চলেছেন ভারতের ১৫ বছর বয়সি উদীয়মান ওপেনার বৈভব সূর্যবংশী। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ দলের এক ক্রিকেটারকে সটান ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এই অনভিপ্রেত ঘটনায় তরুণ ক্রিকেটারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় শিবির। ভারত ‘এ’ দলের অধিনায়ক তিলক বর্মা, কোচ সাইরাজ বাহুতুলে এবং খোদ ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) বৈভবের আচরণকে সমর্থন জানিয়েছে।
মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল?
সোমবার ভারত ‘এ’ বনাম শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের ম্যাচটি চরম নাটকীয় মোড় নেয় এবং গড়ায় সুপার ওভারে। সুপার ওভারের শেষ বলে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৮ রান। কিন্তু বোলার কুগাতাস মথুলানের দেওয়া নিখুঁত ইয়র্কার বলটিতে কোনও রান নিতে ব্যর্থ হন বৈভব।
ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানোর ঠিক আগের মুহূর্তে ঘটে এই অপ্রীতিকর ঘটনা। ম্যাচ জেতার পর বোলার মথুলানের অতি-উচ্ছ্বাস বা অন্য কোনও কারণে মেজাজ ধরে রাখতে না পেরে বৈভব সরাসরি গিয়ে শ্রীলঙ্কার এক ক্রিকেটারকে ধাক্কা মারেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই ভারতের সূর্যাংশ শেড়গে এবং শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিরোশন ডিকওয়েলা দ্রুত এগিয়ে এসে বৈভবকে সরিয়ে নিয়ে যান। সতীর্থরা শান্ত করার চেষ্টা করলেও বৈভবের ক্ষোভ তখন চরম পর্যায়ে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ম্যাচের একটা বড় সময় জুড়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা বৈভবকে অনবরত উত্ত্যক্ত করে যাচ্ছিলেন।
শুধু এই ঘটনাই নয়, এর আগে ম্যাচের আলো এবং একটি ‘নো বল’ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আম্পায়ারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক তিলক বর্মা। চতুর্থ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল বৈভবকেও। দীর্ঘক্ষণ ধরে জমতে থাকা সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে ম্যাচ শেষে।
শাস্তির মুখে বৈভব: কোহলির নজিরের উল্লেখ
প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারের সঙ্গে শারীরিক সঙ্ঘর্ষে জড়ানোর অপরাধে আইসিসি (ICC)-র নিয়ম অনুযায়ী বৈভবের ম্যাচ ফি কেটে নেওয়া হতে পারে। এর আগে ২০২৪ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজ় চলাকালীন বিপক্ষ ক্রিকেটারকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে বিরাট কোহলির ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছিল। বৈভবের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আর্থিক জরিমানা এবং ম্যাচ রেফারির তরফ থেকে কঠোর সতর্কবার্তা আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘সীমা লঙ্ঘন করেছে শ্রীলঙ্কাই’: পাশে অধিনায়ক ও কোচ
শাস্তির মেঘ ঘনালেও দলের তরুণ সদস্যের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অধিনায়ক তিলক বর্মা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন:
“গোটা ম্যাচ জুড়ে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা আমাদের স্লেজিং (গালাগাল) করছিল। এমনকি আম্পায়ারদের বেশ কিছু সিদ্ধান্তও ওদের পক্ষে গিয়েছিল। আমরা সেসব উপেক্ষা করেই খেলছিলাম। কিন্তু ম্যাচ শেষে বৈভব যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিল, তখন ওরা অকারণে ওকে আবারও গালাগাল দেয়। ওরাই আসলে ভদ্রতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বৈভব যা করেছে, একদম ঠিক করেছে।”
অন্যদিকে, দলের প্রধান কোচ সাইরাজ বাহুতুলে বৈভবের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষ দলকে সৌজন্য শেখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমি বৈভবকে চিনি, ও সবসময় খেলার মধ্যেই ডুবে থাকে। আমি নিশ্চিত ও মাঠে চরমভাবে উস্কানির শিকার হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের শেখা উচিত প্রতিপক্ষের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয়। ওদের দলেও অভিজ্ঞ কোচ রয়েছেন, আশা করি তাঁরা এই শিক্ষা ক্রিকেটারদের দেবেন।” তবে একই সঙ্গে কোচ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানান, ভবিষ্যতে বৈভব আর এই ধরনের আচরণ করবে না।
হস্তক্ষেপ করবে না বোর্ড
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ শইকীয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বোর্ডের পক্ষ থেকে বৈভবের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না। তরুণ ক্রিকেটারদের মানসিক স্থিতি ধরে রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই ক্রিকেটাররা প্রতিযোগিতায় ও নিজেদের খেলায় মন দিক। এই ধরনের ঘটনা যেন তাদের মনঃসংযোগ নষ্ট না করে। ক্রিকেট বোর্ড সবসময় আমাদের ক্রিকেটারদের পাশে রয়েছে।”

