“খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে, কোনও রাজনীতি বা অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।” রাজ্যের ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধের দাবিতে সিএবি (CAB)-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার পাঠানো খোলা চিঠির জবাবে এই কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। একই সঙ্গে এই বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার ক্যালকাটা স্পোর্টস জার্নালিস্ট ক্লাবে আয়োজিত একটি ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে অভিষেক ডালমিয়ার চিঠির প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন:
“ওঁর চিঠি আমি পেয়েছি এবং তা খুঁটিয়ে পড়েছি। এই বিষয়ে ওঁর সঙ্গে আমার ফোনে কথাও হয়েছে। সবিস্তারে বিষয়টি জানতে আমি ওঁর কাছে কিছুটা সময় চেয়েছি। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই আমরা এক সঙ্গে বৈঠকে বসব। সমস্ত দিক আলোচনা করে যা যা পদক্ষেপ করা দরকার, আমরা তা করব।”
চিঠিতে আর্থিক তছরূপ ও দল গঠনের দুর্নীতির অভিযোগ
ক্রীড়ামন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে অভিষেক ডালমিয়া রাজ্যের বিভিন্ন খেলাধুলোয় বয়স ভাঁড়ানো, স্বজনপোষণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “সব ধরনের দুর্নীতি, আর্থিক তছরূপ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অন্যায় কাজের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত।”
সম্প্রতি সিএবি-র কমিটি সদস্য অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধে ওঠা একটি আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের প্রেক্ষিতে (চিঠিতে কারও নাম উল্লেখ না করে) অভিষেক ডালমিয়া জানান, রাজ্যের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি খেলোয়াড়দের দলে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। টাকা লেনদেনের যাবতীয় নথি, ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য প্রমাণ অতীতে কর্তৃপক্ষের সামনে আনা হলেও কোনও স্বচ্ছ তদন্ত হয়নি। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করার জন্য তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
ময়দানে ‘থ্রেট কালচার’ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্ত্রী
সিএবি-র বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে প্রভাব খাটানো এবং ‘থ্রেট কালচার’ বা ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরির পিছনে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের নাম জড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ অত্যন্ত কড়া ভাষায় পূর্বতন প্রশাসন ও পুলিশের একাংশের সমালোচনা করেন।
ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, “থ্রেট কালচার এতদিন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে চলছিল, ক্রীড়া ক্ষেত্রও তার ব্যতিক্রম ছিল না।” তৎকালীন স্বরাষ্ট্র ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “অপদার্থ পুলিশ প্রশাসনও ক্রীড়াক্ষেত্রে নাক গলাত। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর (যিনি তৎকালীন পুলিশমন্ত্রীও ছিলেন) ছত্রছায়ায় এসব চলত। তা না হলে কীভাবে ‘সোনা পাপ্পু’র (আসল নাম বিশ্বজিৎ পোদ্দার, যাঁকে ভয় দেখিয়ে সম্পত্তি দখলের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি গ্রেফতার করেছে) সঙ্গে যোগ থাকা শান্তনু সিংহ বিশ্বাস আইসি (IC) থেকে রাতারাতি ডিসি (DC) হয়ে যান? ওঁরা বয়স্ক মানুষদের জমি-বাড়ি লুঠ করেছিলেন এবং তোলাবাজি চালিয়েছিলেন।”
ক্রীড়াক্ষেত্রকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অঙ্গীকার করে বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতের সমস্ত ঘটনা বর্তমান সরকারের মাথায় রয়েছে এবং ময়দানের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

