সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত’ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে জোরপূর্বক প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অপবাদ ও ব্ল্যাকমেলের আতঙ্ক সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ওই তরুণী। সোমবার (১৫ জুন) নদিয়ার শান্তিপুর ব্লকের হরিপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্রীর নাম সন্ধ্যা দেবনাথ (১৮)। তাঁর বাবা বাসুদেব দেবনাথ পেশায় একজন টোটো চালক। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর চলতি বছরেই কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন সন্ধ্যা।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্থানীয় এক যুবক দীর্ঘদিন ধরেই সন্ধ্যাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত ও হেনস্থা করছিলেন। বন্ধুত্বের সুবাদে পূর্বে সন্ধ্যার কিছু ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নিয়েছিলেন ওই যুবক। পরবর্তীতে সন্ধ্যা তাঁর সঙ্গে প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে জড়াতে রাজি না হওয়ায়, ওই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেন তিনি।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও আত্মহত্যার প্ররোচনা
রবিবার রাতে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে সন্ধ্যার হোয়াটসঅ্যাপে দীর্ঘক্ষণ কথোপকথন হয়। ঘটনার পর ছাত্রীর পরিবার সেই চ্যাটের বিবরণ প্রকাশ্যে এনেছে। সেখানে দেখা গেছে, অভিযুক্ত যুবক সন্ধ্যাকে চরম হুমকি দিয়ে লিখেছেন:
“মান-সম্মান বাঁচাতে হলে রিলেশনে আয়।”
পরিবারের অভিযোগ, এই চ্যাট ও ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গভীর রাতে চরম পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন সন্ধ্যা। সোমবার সকালে তাঁর মা চা নিয়ে মেয়েকে ডাকতে গেলে ঘরের ভেতর সন্ধ্যাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
কন্যাহারা মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “মেয়ের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট দেখলেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ওর সম্মানহানি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওকে তীব্র মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমি ওই ছেলের কঠিন শাস্তি চাই।”
তদন্তে নেমেছে পুলিশ
খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে অভিযুক্ত যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং প্ররোচনার তথ্যপ্রমাণ সুনিশ্চিত করতে মৃত ছাত্রীর মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযুক্তের খোঁজে জোর কদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

