বিশ্বকাপে নামার আগেই আতঙ্ক: ফ্লোরিডায় ১৫০ বছরের তীব্রতম ভূমিকম্পের মুখে ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল ফুটবল দল

বিশ্বকাপে নামার আগেই আতঙ্ক: ফ্লোরিডায় ১৫০ বছরের তীব্রতম ভূমিকম্পের মুখে ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল ফুটবল দল

আগামী বিশ্বকাপ ফুটবলের মূলমঞ্চে মাঠে নামার আগেই চরম আতঙ্কের মুখে পড়ল ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল শিবির। তবে এই ভীতি ফুটবলের কোনো হার-জিতের নয়, বরং এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারতে আমেরিকার ফ্লোরিডায় শিবির করেছে দুই পরাশক্তি দেশ। সোমবার সেখানেই এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাবে কেঁপে ওঠে হ্যারি কেন ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের আস্তানা।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.১। আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ফ্লোরিডায় গত প্রায় ১৫০ বছরের ইতিহাসে এটিই তীব্রতম ভূমিকম্প।

কিউবা উপকূলে উৎস, কেঁপে উঠল মায়ামি-অরল্যান্ডো

ভূমিকম্পের মূল কেন্দ্রস্থল ছিল ফ্লোরিডা থেকে প্রায় ৪০০ মাইল দূরে, কিউবার পশ্চিম উপকূলের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে। তবে এর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, মায়ামি, জ্যাকসনভিলের পাশাপাশি ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত ইংল্যান্ডের ফুটবল শিবির এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের পর্তুগাল শিবিরেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিউবায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন ভয়ানক অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনে প্রথম। ঘর-বাড়ি তীব্রভাবে দুলতে থাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন। মূল কম্পনের পর বেশ কয়েকটি মৃদু আফটার শক (Aftershock)-ও অনুভূত হয়েছে।

নিরাপদ আছেন হ্যারি কেন ও রোনাল্ডোরা

ইংল্যান্ড সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টমাস টুখেলের কোচিংয়ে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারছে ইংলিশ বাহিনী। বুধবারই কোস্টারিকার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে হ্যারি কেনদের। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে শিবিরে আতঙ্ক ছড়ালেও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। ইংল্যান্ড দলের সমস্ত ফুটবলার ও স্টাফ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন। সূচি অনুযায়ী, আর কিছুদিন পরেই কানসাস সিটিতে চলে যাবে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।

অন্যদিকে, ফ্লোরিডাতেই অবস্থানরত পর্তুগাল শিবিরের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোসহ দলের বাকি ফুটবলাররাও সুরক্ষিত রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জারি সতর্কতা, তবে নেই সুনামির আশঙ্কা

বিশ্বকাপের দুই আয়োজক দেশ আমেরিকা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতের কাছে গুছিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, সমুদ্রের তলদেশে এই কম্পন হলেও কোনো সুনামির সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

১৫০ বছরের রেকর্ড ভাঙল এই কম্পন সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে এর আগে শেষবার এমন প্রলয়ঙ্কারী ভূমিকম্প হয়েছিল আজ থেকে ১৪৬ বছর আগে, ১৮৮০ সালে। সে বার রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৬। সোমবারের ৬.১ মাত্রার এই কম্পন সেই দেড় শতাব্দী প্রাচীন রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.