তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) ২০ জন সাংসদের বিদ্রোহ ও দলবদলের জেরে লোকসভায় শক্তির দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) জোট। এর ফলে লোকসভায় শাসক জোটের আসন সংখ্যা ৩০০-র গণ্ডি পেরিয়ে যাচ্ছে। তবে আগামী মাস থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনে ‘এক দেশ, এক ভোট’ বা আসন পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
সংবাদ সূত্রের ভিত্তিতে তৈরি বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে উপস্থাপন করা হলো:
৩১২-এ পৌঁছাল এনডিএ, তাও লক্ষ্য অধরা
বর্তমানে লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের নিজস্ব সাংসদ সংখ্যা ২৯২। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এই শিবিরে যোগ দেওয়ায় জোটের মোট আসন সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩১২-তে।
তবে আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ চালু করা কিংবা ‘এক দেশ, এক ভোট’-এর মতো সংবিধান সংশোধন বিল পাশ করাতে গেলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬.৬৭ শতাংশ) সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
- ৫৪৩ সদস্য বিশিষ্ট লোকসভায় সাধারণত এই ম্যাজিক ফিগারটি হলো ৩৬২।
- বর্তমানে বসিরহাটসহ তিনটি আসন শূন্য থাকায় এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১-তে।
এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) মঞ্চ ত্যাগ করা ডিএমকে (DMK)-র ২২ জন সাংসদকে পাশে পেলেও এনডিএ-র মোট আসন সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৩৪, যা বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়ে কম।
ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে শাহদের ‘নজর’ যে দলগুলোর ওপর
প্রয়োজনীয় ৩৬১ আসনের লক্ষ্যপূরণে বিজেপি এখন অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলোর অসন্তুষ্ট বা ছোট ছোট গোষ্ঠীগুলোর সমর্থনের ওপর নজর রাখছে। দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের রাডারে রয়েছে:
| রাজনৈতিক দল | সাংসদ সংখ্যা |
| উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা (UBT) | ৮ |
| শরদ পওয়ার অনুগামী এনসিপি (SP) | ৮ |
| ওয়াইএসআর কংগ্রেস (YSRCP) | ৪ |
| শিরোমণি অকালি দল (SAD) | ১ |
| অকালি দল (WPD) | ২ |
| জ়োরাম পিপলস মুভমেন্ট (ZPM) | ১ |
দিল্লিতে শুভেন্দুর উপস্থিতিতে হাইভোল্টেজ বৈঠক
বিজেপি সূত্রের খবর, সোমবার দিল্লিতে দলের প্রবীণ নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে তৃণমূলের একঝাঁক শীর্ষনেতা ও সাংসদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উপস্থিত ও চর্চিত নাম: > বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত মাল, বাপি হালদার, জুন মালিয়া, জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, পার্থ ভৌমিক এবং শর্মিলা সরকার। এ ছাড়াও বিদ্রোহীদের তালিকায় ইউসুফ পঠান, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দীপক অধিকারী (দেব)-র নামও উঠে এসেছে।
যদি এই সমস্ত সাংসদের এনডিএ শিবিরে যোগ দেওয়া চূড়ান্ত হয়, তবে লোকসভায় সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে মোদী সরকার অনেকটাই স্বস্তিদায়ক অবস্থানে পৌঁছে যাবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

