পশ্চিমবঙ্গে ভারী শিল্প ও বৃহৎ বিনিয়োগ ফিরিয়ে আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতায় লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র চেয়ারম্যান তথা ম্যানেজিং ডিরেক্টর এস এন সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সারলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতা বিমানবন্দরে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের শিল্প-পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
আধ ঘণ্টার বৈঠক: ফোকাসে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও এল অ্যান্ড টি প্রধানের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই গঠনমূলক আলোচনা চলে। বৈঠক শেষে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের ঝিমিয়ে পড়া শিল্পক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য: “এই ৩০ মিনিটের আলোচনায় আমরা মূলত পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রকে পুনরুজ্জীবিত করার উপরে জোর দিয়েছি। রাজ্যের তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যে একটি উন্নত শিল্প-পরিকাঠামো গড়ে তোলা, বিনিয়োগ টানা এবং অর্থনৈতিক বিকাশে আরও গতি আনার বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্পপতিদের সঙ্গে সরকারের এই কৌশলগত সমন্বয় আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মোদীর সফরের পরদিনই কলকাতায় সুব্রহ্মণ্যম
নির্মাণ, প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে কাজ করে এই বহুজাতিক সংস্থা। ঘটনাচক্রে, গত শুক্রবারই গুজরাতের হাজ়িরায় এল অ্যান্ড টি-র একটি প্রতিরক্ষা-শিল্পকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও কথা হয়। তার ঠিক পরের দিনই কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন এল অ্যান্ড টি চেয়ারম্যান, যা রাজ্যের শিল্পায়নের নিরিখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
শিল্পবিমুখ ভাবমূর্তি ঘোচাতে মরিয়া নতুন সরকার
অতীতে সিঙ্গুরে টাটাদের গাড়ি কারখানা তৈরির বিরোধিতা এবং জমি আন্দোলনের জেরে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসেছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত দেড় দশকে রাজ্যে কোনো বড় বা ভারী শিল্প আসেনি, যার ফলে পশ্চিমবঙ্গের একটি ‘শিল্পবিমুখ’ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বর্তমান বিজেপি সরকার সেই খরা কাটাতে বদ্ধপরিকর। শিল্পায়নের এই তৎপরতার অংশ হিসেবে:
- আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক: দু’দিন আগেই (গত বুধবার) নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিল্পপতি গৌতম আদানির পুত্র করণ আদানি।
- টাটাদের ফেরানোর বার্তা: রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নতুন সরকার হুগলিতে পুনরায় টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। পশ্চিমবঙ্গ যে এখন সম্পূর্ণ বিনিয়োগবান্ধব এবং শিল্পকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত, সেই বার্তাই দিতে চাইছে বর্তমান প্রশাসন।

