নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে গৌতম আদানির পুত্রের বৈঠক, বাংলায় ফের বিনিয়োগের ইঙ্গিত

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে গৌতম আদানির পুত্রের বৈঠক, বাংলায় ফের বিনিয়োগের ইঙ্গিত

পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ শিল্প ও আধুনিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা পুনরায় উজ্জ্বল করে বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন আদানি গোষ্ঠীর শীর্ষকর্তা করণ আদানি। নবান্নে অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটিকে কেন্দ্র করে বর্তমান সময়ে রাজ্যের রাজনৈতিক ও শিল্পমহলে ব্যাপক উৎসাহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে লজিস্টিক্স, বিদ্যুৎ ক্ষেত্র, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অত্যাধুনিক ‘গ্রিনফিল্ড’ সড়ক নির্মাণসহ একাধিক মেগা প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে অত্যন্ত ইতিবাচক ও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।

শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নতুন প্রশাসনের সক্রিয়তা

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই নতুন প্রশাসন পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগ-বান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক পদক্ষেপ করছে। শিল্পমহলের একাংশের মতে, নতুন সরকারের আমলে শিল্পায়নের পরিবেশ ফেরানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে এই বৈঠক তারই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও কার্যকর প্রমাণ। দীর্ঘ স্থবিরতার পর এই আলোচনার হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ কর্পোরেট বিনিয়োগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তাজপুর জট ও অতীত অধ্যায়ের অবসান

উল্লেখ্য, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে বড় মাপের বিনিয়োগ নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে তৎকালীন রাজ্য সরকারের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পূর্বতন সরকারের আমলে তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর (Tajpur Deep Sea Port) নির্মাণের জন্য গৌতম আদানি গোষ্ঠী টেন্ডার বা বরাত পেয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, লাল ফিতের ফাঁস এবং নীতিগত অসঙ্গতির কারণে সেই মেগা প্রকল্প আর বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই টেন্ডারটি সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায় এবং আদানি গোষ্ঠী এ রাজ্য থেকে তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

ইতিবাচক বার্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা

অতীতের সেই তিক্ত অধ্যায় ও দীর্ঘ জটিলতা কাটিয়ে আবারও নতুন সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর এই সক্রিয় আগ্রহ প্রকাশকে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছে দেশের বাণিজ্যমহল।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ, সড়ক, বন্দর এবং লজিস্টিক্সের মতো বুনিয়াদি ক্ষেত্রে যদি আদানি গোষ্ঠীর মতো বড় কর্পোরেট হাউসের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ আসে, তবে তা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে। একই সাথে এর ফলে রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শিল্পোন্নয়নের চাকাও দ্রুত ঘুরবে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই বৈঠক একটি মাইলফলক হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। যদিও বুধবারের এই বৈঠকের পর এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রকল্প বা বিনিয়োগের আর্থিক পরিমাণ ঘোষণা করা হয়নি, তা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে রাজ্যে এক বড়সড় শিল্প জোয়ারের রূপরেখা তৈরি হয়ে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.