গ্রীষ্মের সকাল, ঘড়ির কাঁটায় তখন ৯টা। রোদের তেজ বাড়তে থাকার সঙ্গেই কলকাতার নন্দন চত্বরে ক্রমশ ভিড় জমাচ্ছেন কাতারে কাতারে মানুষ। উদ্দেশ্য— সদ্যপ্রয়াত বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো। গত বুধবার এক আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাঁর প্রয়াণের খবর সামনে আসে। প্রিয় পরিচালকের এই অকাল ও আকস্মিক চলে যাওয়া এখনও মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না তাঁর অগণিত অনুরাগী ও সহকর্মীরা, যার প্রতিফলন সামাজিক মাধ্যমেও স্পষ্ট।
বৃহস্পতিবার প্রয়াত পরিচালকের দেহ রাখা ছিল ‘পিস ওয়ার্ল্ড’-এ। বিদেশ থেকে অনীকের কন্যা ঐশী দত্ত কলকাতায় ফেরার পরই শুক্রবার সকালে তাঁর নিথর দেহ শেষকৃত্যের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয় নন্দন চত্বরে।
নন্দন চত্বরে শেষ শ্রদ্ধা, পরিবারের বিশেষ সিদ্ধান্ত
নন্দনের মূল প্রবেশদ্বারের সামনে প্রয়াত পরিচালকের একটি বড় প্রতিকৃতি রাখা হয়েছিল, যা সাজানো ছিল শ্বেতশুভ্র ফুলে। সেই ছবির সামনেই এসে থামে অনীক দত্তর শববাহী শকট। তবে প্রচণ্ড গরমের কথা বিবেচনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শববাহী গাড়ি থেকে পরিচালকের দেহ বাইরে বার করা হয়নি। অনুরাগীদের জানানো হয়, কেউ ফুল বা মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে চাইলে তাঁরা যেন বাইরে রাখা প্রতিকৃতিতেই তা অর্পণ করেন।
চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক মহলের বিশিষ্টদের সমাগম
নন্দন চত্বরে প্রিয় পরিচালককে শেষ বিদায় জানাতে হাজির হয়েছিলেন বিনোদন জগৎ ও রাজনৈতিক মহলের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, পাপিয়া অধিকারী এবং প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান-সহ আরও অনেকে।
প্রথম থেকেই এই অন্তিম যাত্রার যাবতীয় তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে সমস্ত প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন এবং প্রয়াত পরিচালকের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। নন্দনে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন পর্ব শেষ হওয়ার পর পরিচালকের শেষযাত্রা পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

