পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্ত সুরক্ষাকে জোরদার করতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-কে (BSF) পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া যেমন শুরু হয়েছে, তেমনই অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্যছাড়া করার কাজও গতি পেয়েছে। এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর এই সমস্ত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৃহস্পতিবার নিজের সংসদীয় ক্ষেত্র গুজরাতের গান্ধীনগরের এক জনসভা থেকে শাহ স্পষ্ট ভাষায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই ভূমিকার প্রতি কেন্দ্রের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান।
“পরিস্থিতির বদল ঘটেছে”: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ শাহের
গান্ধীনগরের সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন প্রতি দিন সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দেদার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটত। তবে আমাদের (বিজেপি) সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অত্যন্ত কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন।”
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বড় ঘোষণা করে জানান, যে সমস্ত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এর আগে প্রায় একই রকমের ঘোষণা করেছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁরা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (CAA) আওতাভুক্ত নন, তাঁদের গ্রেফতার করে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্দেশ্যে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
বিএসএফ-কে ১৪২ একরেরও বেশি জমি হস্তান্তর: শীর্ষে মুর্শিদাবাদ
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় গতি আনতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিএসএফ-কে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত এই জমিতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বিএসএফের নতুন আউটপোস্ট বা সীমান্ত চৌকি তৈরি করা হবে।
বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে কোন জেলায় ঠিক কতখানি জমি দেওয়া হয়েছে, তার একটি খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই তালিকা অনুযায়ী, বিএসএফ-এর পরিকাঠামো গড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলাতেই।
জনবিন্যাসের চরিত্র বদল রুখতে উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের (Demography) চরিত্রগত কোনো বদল ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গত মঙ্গলবারই একটি উচ্চস্তরীয় কমিটি গঠন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর পরেই বুধবার বিএসএফ-কে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে (যা বিএসএফের আইনি এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা) জনবিন্যাসের চরিত্রে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসছে কি না, তার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্র ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই যৌথ ও কঠোর অবস্থান আগামী দিনে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও নিশ্ছিদ্র করে তুলবে।

