বেহালায় ১৫ বছরের ‘নরকযন্ত্রণা’: রাস্তা ও নিকাশি সংস্কারের দাবিতে পুরকমিশনারের দ্বারস্থ বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ

বেহালায় ১৫ বছরের ‘নরকযন্ত্রণা’: রাস্তা ও নিকাশি সংস্কারের দাবিতে পুরকমিশনারের দ্বারস্থ বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ

দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সংস্কারহীন রাস্তা আর সামান্য বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়া নিকাশি ব্যবস্থা— বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের এই দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ দশা নিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা পুরসভার (KMC) দ্বারস্থ হলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক তথা বিশিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ। এলাকার সাধারণ মানুষের লাগাতার ক্ষোভ ও অভিযোগের প্রেক্ষিতে, শুক্রবার তিনি কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন। দীর্ঘ আলোচনার পর পুরসভার তরফে দ্রুত এলাকা পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভেঙে পড়া পরিকাঠামো: রাস্তা ও নিকাশির বেহাল দশা

বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিগত ১৫ বছর ধরে এখানকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সংযোগকারী রাস্তার কোনো বড়সড় সংস্কার বা মেরামতি হয়নি। পিচ উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যা সাধারণ সময়েও যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে এবং মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।

সমস্যা কেবল রাস্তাতেই সীমাবদ্ধ নয়; এলাকার জল নিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বর্ষাকাল ছাড়াও সামান্য কয়েক মিনিটের বৃষ্টিতেই বেহালা পশ্চিমের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। আলপনা থিয়েটার মোড়, ঠাকুরপুকুর বা শীলপাড়া সংলগ্ন একাধিক ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দিনের পর দিন জলবন্দি হয়ে থাকতে হয়, এমনকি নোংরা জল ঘরের ভেতর ঢুকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়।

এই প্রসঙ্গে বিধায়ক ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ দাবি করেন:

“এখানে ড্রেনেজ সিস্টেমের আমূল সংস্কার ও উন্নতির প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ করদাতা নাগরিকদের।”

পুর সদরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: মিলল পরিদর্শনের আশ্বাস

এলাকার মানুষের এই চরম দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধানের দাবিতে শুক্রবার কলকাতা পুরসভার সদর দপ্তরে পৌঁছান বিজেপি বিধায়ক ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ। সেখানে মিউনিসিপাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি বেহালা পশ্চিমের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার ছবি এবং নিকাশি সমস্যার বিস্তারিত খতিয়ান পুরকমিশনারের কাছে তুলে ধরেন।

বৈঠক পরবর্তী প্রধান সিদ্ধান্তসমূহ:

  • দ্রুত পরিদর্শন: পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অভিযোগ শুনেছেন এবং অতি দ্রুত কলকাতা পুরসভার একটি বিশেষজ্ঞ দল সমস্যা জর্জরিত এলাকাগুলো পরিদর্শনে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
  • প্রশাসনিক পদক্ষেপ: পুরো পরিস্থিতির একটি ‘টেকনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট’ বা প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করে দ্রুত রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনেজ সিস্টেমের আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ময়দানি রাজনীতিতে নাগরিক ইস্যু

রাজনৈতিক মহলের মতে, কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিধানসভা এলাকায় দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাস্তার সংস্কার না হওয়া এবং জল জমার সমস্যা বজায় থাকা বর্তমান পুরবোর্ডের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে। বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পদটি দীর্ঘদিন ধরে শাসকদলের দখলে থাকলেও, একুশের নির্বাচনে এখানে জয়ী হন ডক্টর ইন্দ্রনীল খাঁ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পুরসভার ওপর চাপ বাড়িয়ে তিনি এই নাগরিক ইস্যুকে সামনে এনেছেন। এখন দেখার, পুরকমিশনারের এই আশ্বাসের পর কত দ্রুত বেহালাবাসী এই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.