টলিউড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: রুদ্রনীল ঘোষ

টলিউড নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা: রুদ্রনীল ঘোষ

আগামী দিনে টলিপাড়ায় ফেডারেশনের ভবিষ্যৎ কী হবে— এই প্রশ্নের জবাবে রুদ্রনীল ঘোষ স্পষ্ট জানান, কোনো সংগঠন থাকবে কি থাকবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার তাঁর বা রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী কিংবা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বিজেপি নেতাদের নেই।

“আমরা টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কলাকুশলীদের অভাব-অভিযোগের কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে জানাব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। তবে নতুন সরকারের লক্ষ্য একটাই— দুর্নীতিমুক্ত টলিউড। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ রয়েছে, ইন্ডাস্ট্রিতে যেন আগামী দিনে শুধুই কাজ হয় এবং সবাই যেন সমানভাবে কাজ পান।” — রুদ্রনীল ঘোষ

তিনি আরও যোগ করেন, আগামী দিনে ফেডারেশন কিংবা গিল্ডের মতো সমস্ত সংগঠনের প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে, সুষ্ঠু ও অবাধ ভোটের মাধ্যমে। সদস্যরা নিজেরাই ভোট দিয়ে তাঁদের পছন্দের প্রতিনিধি বেছে নেবেন। অতীতের বৈষম্য ভুলে সবাইকে নতুন করে পথ চলার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে টলিউডের নক্ষত্র সমাবেশ: দাবি ‘কাজে রাজনীতি নয়’

এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের প্রথম সারির পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনেতাগণ।

  • পরিচালক ও প্রযোজক: বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, সৃজিৎ রায় এবং প্রযোজক অশোক ধানুকা, নিসপাল সিং রানে, ফিরদৌসল হাসান, সুশান্ত দাস ও সৌরভ দাস প্রমুখ।
  • মূল দাবি: টলিউডকে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও ‘বয়কট সংস্কৃতি’ থেকে মুক্ত করার আর্জি জানান তাঁরা। উপস্থিত সুধীমহলের স্পষ্ট অনুরোধ— রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে, কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে যেন তার কোনো প্রভাব না পড়ে। আর যেন কারও কাজ জোর করে বন্ধ না করা হয়, কাউকে যেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য না হতে হয় এবং বহিরাগত কেউ যেন ইন্ডাস্ট্রির সংগঠনের মাথায় না বসেন।

পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সহমত পোষণ করে বলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও মন দিয়ে সিনেমা, সিরিজ ও ছবি তৈরির পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। রুদ্রনীলও তাঁর সুর মিলিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক মত যার যার। কাজ সবার।”

রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন কলাকুশলীরা

যাঁদের অধিকার রক্ষার দাবিতে এই বৈঠকের আয়োজন, সেই সাধারণ কলাকুশলীদের অনেকেই এদিন দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও আতঙ্কের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। রূপসজ্জাশিল্পী (মেকআপ আর্টিস্ট) সিমরন পালসহ একাধিক টেকনিশিয়ান বৈঠকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তাঁদের অভিযোগ, বিগত দিনে সংগঠনের তৎকালীন কর্তাদের ‘মতে এবং পথে’ না মিললে তাঁদের ওপর চরম মানসিক অত্যাচার চালানো হতো। এমনকি দিনের পর দিন কাজ কেড়ে নেওয়া এবং খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হতো বলে তাঁরা রুদ্রনীলের কাছে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। নতুন সরকারের কাছে এই সমস্ত অত্যাচারের বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগী কলাকুশলীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.