মেদিনীপুরের গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। এই প্রথম কোনো খাঁটি ‘ভূমিপুত্র’ হিসেবে গড়বেতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে অনন্য নজির গড়লেন প্রদীপ লোধা। তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়কে কেন্দ্র করে রবিবার গোটা গড়বেতাজুড়ে এক বাঁধভাঙা উৎসবের আবহ দেখা গেল।
বিধায়ক পদে প্রদীপ লোধার এই জয়লাভ উদযাপন করতে এদিন এলাকায় এক বিশাল ও বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানাতে এই মিছিলে শামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার দলীয় সমর্থক থেকে শুরু করে আপামর সাধারণ মানুষ।
ঢাক-ঢোল আর আবিরের রঙে রঙিন গড়বেতা
রবিবার দুপুরের পর থেকেই গড়বেতা শহরের বুক চিরে এগিয়ে চলে এই মেগা বিজয় মিছিল। শহরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান রাস্তা পরিক্রমা করে শোভাযাত্রাটি। হরেক রকমের ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার আওয়াজ, কর্মী-সমর্থকদের গগনভেদী স্লোগান এবং দেদার আবির খেলার মধ্য দিয়ে গোটা এলাকা এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কাতারে কাতারে মানুষের উচ্ছ্বাস কার্যত প্রমাণ করে দেয় যে, দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর ভূমিপুত্র প্রদীপ লোধার এই জয়কে গড়বেতার সাধারণ মানুষ নিজেদেরই জয় হিসেবে দেখছেন।
“দীর্ঘদিন পর সাধারণ মানুষের মতামতের জয় হয়েছে” — আবেগে ভাসলেন বিধায়ক
বিজয় মিছিলে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ঢল ও ভালোবাসা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নবনির্বাচিত বিধায়ক প্রদীপ লোধা। সকলকে হাত জোড় করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন:
“গড়বেতার মানুষ আজ যেন এক প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর এই মাটিতে সাধারণ মানুষের আসল মতামতের জয় নিশ্চিত হয়েছে। আর সেই কারণেই দলমত নির্বিশেষে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ আজ আমার সমর্থনে এবং নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছেন।”
এলাকার সার্বিক ভোলবদল করার আশ্বাস দিয়ে প্রদীপবাবু আরও জানান, এখন থেকে গড়বেতার প্রকৃত উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং এলাকার সার্বিক অগ্রগতিই হবে তাঁর প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য। গড়বেতাবাসী তাঁর ওপর যে আশা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করতে তিনি সর্বদা মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবেন।
প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী
এদিনের এই মেগা বিজয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তার জন্য মহকুমা ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার দিকে কড়া নজরদারি চালানো হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা রুট জুড়েই মোতায়েন করা হয়েছিল পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী। সব মিলিয়ে, কোনো রকম বিশৃঙ্খলা ছাড়াই প্রদীপ লোধার এই জয়োৎসব ঘিরে সমগ্র গড়বেতা অঞ্চলে এক নজিরবিহীন আবেগঘন ও উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।

