আইপিএল ২০২৬-এর লিগ পর্বের সমাপ্তি দোরগোড়ায়। আর মাত্র ১০ দিন বাকি থাকতেই জমে উঠেছে প্লে-অফের অঙ্ক। কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের মতো দলগুলি শেষ মুহূর্তে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোয় বর্তমানে আটটি দলের সামনেই শেষ চারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আরসিবি এবং ধারাবাহিক গুজরাট টাইটান্স সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, লড়াই ছাড়ছে না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বা রাজস্থান রয়্যালসের মতো দলগুলিও।
১. রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)
গতবারের চ্যাম্পিয়ন রজত পাতিদারের আরসিবি এবারও খেতাবের অন্যতম দাবিদার। ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট এবং +১.১০৩ নেট রান রেট নিয়ে তারা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। বুধবার (১৩ মে) কেকেআর-কে হারালেই তাদের প্লে-অফ কার্যত নিশ্চিত হয়ে যাবে। নিরাপদ থাকতে ১৮ পয়েন্টের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে আরসিবি। বাকি তিন ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেকেআর, পঞ্জাব কিংস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।
২. গুজরাত টাইটান্স (GT)
শুভমন গিলের নেতৃত্বে গুজরাত টাইটান্স ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দরজায় কড়া নাড়ছে। বোলারদের ছন্দ এবং টপ অর্ডার ব্যাটারদের দাপটে তারা বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। শেষ দুই ম্যাচে কেকেআর ও সিএসকে-র মুখোমুখি হবে তারা। একটি জয় পেলেই শেষ চারের টিকিট পাকা।
৩. সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH)
প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে শেষ ৮ ম্যাচের ৬টিতে জিতে দারুণ ছন্দে রয়েছে হায়দরাবাদ। ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা তালিকার তৃতীয় স্থানে। মঙ্গলবার গুজরাতের কাছে হারলেও তাদের হাতে আরও দুটি ম্যাচ (প্রতিপক্ষ সিএসকে ও আরসিবি) রয়েছে। প্লে-অফ নিশ্চিত করতে কামিন্সদের অন্তত একটি জয় বা ২ পয়েন্ট প্রয়োজন।
৪. পঞ্জাব কিংস (PBKS)
বোলিং ও ফিল্ডিং ব্যর্থতায় টানা চার ম্যাচ হারলেও লিগের প্রথমার্ধের ভালো ফলের সুবাদে এখনও লড়াইয়ে রয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের পঞ্জাব। ১১ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা চতুর্থ স্থানে। কেকেআর-এর বিরুদ্ধে ইডেনে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে পাওয়া ১ পয়েন্ট তাদের অক্সিজেন জুগিয়েছে। বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিতলেই প্রীতি জিন্টাদের দল শেষ চারের টিকিট পেতে পারে।
৫. চেন্নাই সুপার কিংস (CSK)
টানা তিন হারের পর শেষ ৮ ম্যাচের ৬টিতে জিতে রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দল এখন তুঙ্গে। সঞ্জু স্যামসনদের সিএসকে-কে প্লে-অফ নিশ্চিত করতে ১৮ পয়েন্ট পেতে হবে, যার জন্য বাকি সব ম্যাচে জয় অপরিহার্য। ১৫ মে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে জয়ই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
৬. কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)
অজিঙ্কা রাহানের কেকেআর প্রথম দিকে টানা ৬ ম্যাচ হারলেও শেষ চার ম্যাচে জিতে চমক দিয়েছে। অন্য দলগুলোর তুলনায় তাদের হাতে একটি ম্যাচ বেশি থাকায় সর্বোচ্চ ১৭ পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ সুবিধা হলো, কেকেআর তাদের শেষ তিনটি ম্যাচই খেলবে ঘরের মাঠে।
৭. রাজস্থান রয়্যালস (RR)
শুরুতে টানা চার জয় দিয়ে মরসুম শুরু করলেও শেষ ৭ ম্যাচের ৫টিতেই হেরেছে রাজস্থান। বৈভব সূর্যবংশী বা ধ্রুব জুরেলের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য থাকলেও বোলিং বিভাগ চিন্তায় রেখেছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টিকে থাকতে হলে বাকি তিন ম্যাচের অন্তত দুটিতে জিততেই হবে রাজস্থানকে।
৮. দিল্লি ক্যাপিটালস (DC)
অক্ষর প্যাটেলের দিল্লির আশা এখন সরু সুতোর ওপর ঝুলছে। ১২ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট পাওয়া দিল্লির পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪ পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব, যা প্লে-অফের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। ফলে দিল্লি ইতিমধ্যেই আগামী মরসুমের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে বলে জল্পনা।
আগামী ১০ দিনের প্রতিটি ম্যাচই এখন নক-আউট পর্যায়ের সমান। পয়েন্টের লড়াইয়ের পাশাপাশি নেট রান রেটের সমীকরণও আইপিএল ২০২৬-এর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করতে চলেছে।

