টলিউডে রাজনীতির রং: শুভেন্দুর শপথে ব্রাত্য থাকার যন্ত্রনা উগরে দিলেন অভিনেত্রী সৌমিলি বিশ্বাস

টলিউডে রাজনীতির রং: শুভেন্দুর শপথে ব্রাত্য থাকার যন্ত্রনা উগরে দিলেন অভিনেত্রী সৌমিলি বিশ্বাস

নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গ্ল্যামার দুনিয়ার একাধিক পরিচিত মুখকে দেখা গিয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছিলেন অভিনেত্রী সৌমিলি বিশ্বাস। দীর্ঘ সময় কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা না গেলেও, ৯ মে ব্রিগেডের সমাবেশে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছিল তীব্র জল্পনা। তবে কি এবার সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখছেন অভিনেত্রী? আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।


রাজনীতিতে যোগদানের জল্পনা ও বাস্তবতা

সরাসরি রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন সৌমিলি। তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ব্রিগেডের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির পেছনে কাজ করেছে একরাশ আশা এবং গত কয়েক বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা। অভিনেত্রীর কথায়:

“রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। শিল্পী হিসেবে আমি কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেই পারি। তবে নির্বাচনী প্রচার বা রাজনৈতিক মঞ্চে থাকার বাসনা এই মুহূর্তে নেই।”

‘ইন্ডাস্ট্রির বঞ্চনা’ নিয়ে বিস্ফোরক সৌমিলি

বিগত ১৫ বছর ধরে টলিউডের একাংশের শিল্পীদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা নিয়ে সোজাসুজি মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী। কোনো রাখঢাক না করেই তিনি জানান, যারা তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের পাশে ছিলেন না বা সক্রিয় রাজনীতি করেননি, তাঁদের অনেক ক্ষেত্রে ‘ভুগতে’ হয়েছে।

সৌমিলির আশা, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার ফলে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। তিনি বলেন, “শিল্পীদের ওপর রাজনীতির কোনো ছাপ পড়া উচিত নয়। আশা করি নতুন সরকার আসার পর সবাই স্বস্তি পাবেন এবং শিল্পের ওপর রাজনৈতিক রং লাগানো বন্ধ হবে।”


নীতিগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এর আগে বহুবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রচারের প্রস্তাব এলেও নৈতিক কারণে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান সৌমিলি। ব্রিগেডে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যারা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রীর বার্তা— এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। আমরা পরিচিত মুখ বলে সাধারণের মনে অনেক প্রশ্ন জাগছে, কিন্তু এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই।

রাজ্যে পালাবদলের পর টলিউডের অন্দরেও যে সমীকরণের বদল ঘটছে, সৌমিলির এই বক্তব্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে অরাজনৈতিক শিল্পীদের ‘বঞ্চনা’ নিয়ে তাঁর এই সওয়াল স্টুডিও পাড়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.