তৃণমূলের ‘জোট’ বার্তায় অধীরের তীব্র কটাক্ষ: ‘অস্তিত্ব বাঁচাতে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতে হবে দিদিকে’

তৃণমূলের ‘জোট’ বার্তায় অধীরের তীব্র কটাক্ষ: ‘অস্তিত্ব বাঁচাতে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করতে হবে দিদিকে’

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর বিজেপি-বিরোধী শক্তির ঐক্য চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকুল আবেদনকে কার্যত নস্যাৎ করে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধীর চৌধুরী। রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এখন কংগ্রেসের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।


‘বিপদে পড়ে বাঁচাও বাঁচাও রব’

শনিবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম, অতিবাম এবং জাতীয় দলগুলিকে একমঞ্চে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিজেপিকে রুখতে তাঁর কোনো ‘ইগো’ বা অহং নেই বলেও জানান তিনি। এর প্রেক্ষিতে অধীর চৌধুরীর মন্তব্য:

“এখন দিদি বিপদে পড়েছেন, তাই ‘বাঁচাও বাঁচাও’ করে সবাইকে ডাকছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এখন তীব্র হতাশায় ভুগছেন। পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসন সরাতে একসময় তিনি নকশালদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন, আর আজ ক্ষমতা হারিয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছেন।”

অধীর আরও যোগ করেন যে, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাহুল গান্ধীর কাছে হাতজোড় করেই দাঁড়াতে হবে। মমতা ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি প্রতিদিন বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত জোট নিয়ে আলোচনার জন্য অফিসে থাকবেন। সেই প্রসঙ্গে অধীরের টিপ্পনী, “বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে ওঁর বাড়িতে কারা দেখা করতে যাচ্ছেন, সেটা আমরা দেখতে চাই। তা হলেই বোঝা যাবে বাংলার মানুষ তাঁকে আন্দোলনের নেত্রী হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দিচ্ছেন কি না।”


অভিষেককে ‘খোকাবাবু’ সম্বোধন ও সম্পত্তির হদিশ নিয়ে আক্রমণ

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন অধীর। অভিষেকের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-কে একটি ‘মিউজিয়াম’ বা প্রদর্শনীর স্থানের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন:

  • মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো হওয়ার দৌলতে কী বিপুল ক্ষমতার অধিকারী হওয়া যায়, তা অভিষেকের প্রাসাদোপম বাড়ি দেখলেই বোঝা যায়।
  • মানুষ এখন কৌতূহলবশত সেই বাড়ি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
  • অধীরের হুঁশিয়ারি, “খোকাবাবুর বাড়ি যেমন মিউজিয়াম হয়েছে, দিদির বাড়িও খুব শীঘ্রই মিউজিয়াম হয়ে যাবে।”

দল ভাঙানোর পুরনো অভিযোগ

ভোট চলাকালীন অধীর চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন যে, তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC) গোপনে কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাঁদের অভিষেকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর সেই অভিযোগের রেশ টেনেই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, অতীতে দল ভাঙানোর রাজনীতি করা তৃণমূল আজ নিজেরাই কোণঠাসা।

বিরোধীদের সম্মিলিত প্রত্যাখ্যান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোটের আবেদনে ইতিপূর্বে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও উপহাস করেছিলেন। এবার অধীর চৌধুরীর এই আক্রমণ তৃণমূলের জোট গঠনের প্রচেষ্টাকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল। তবে অধীরের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

তৃণমূলের পরাজয়ের পর বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠন করেছে এবং বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী ঐক্যের ডাক দিলেও বাম-কংগ্রেস নেতৃত্ব যে এখনই নমনীয় হতে রাজি নয়, তা অধীরের আক্রমণাত্মক মেজাজ থেকেই স্পষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.