সালটা ছিল ২০০৮। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জিতে আইপিএলের আঙিনায় পা রেখেছিলেন এক তরুণ প্রতিভা— রবীন্দ্র জাডেজা। রাজস্থান রয়্যালসের তৎকালীন অধিনায়ক ও কোচ, কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন এক নজরেই চিনে নিয়েছিলেন তাঁর প্রতিভা। ভালোবেসে জাডেজাকে নাম দিয়েছিলেন ‘রকস্টার’। দীর্ঘ দেড় দশক পর সেই একই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলা অন্য এক তরুণের ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ জাডেজা। নিজের সেই আইকনিক ‘রকস্টার’ তকমা এবার উত্তরসূরি বৈভব সূর্যবংশীকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি।
বৈভবের ব্যাটে মুগ্ধ জাডেজা
সম্প্রচারকারী চ্যানেলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জাডেজা রাজস্থান রয়্যালসের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাডেজার মতে, রাজস্থান দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার থাকলেও বৈভব সবার থেকে আলাদা। তিনি বলেন, “যেভাবে ও ব্যাট করছে, তাতে স্পষ্ট যে এই বয়সেই ও কতটা পরিণত। ও জানে ওর শক্তি কোথায় এবং কীভাবে ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। নিজের শক্তির ওপর ভরসা আছে বলেই বিশ্বের তাবড় বোলারদের বিরুদ্ধে ও এত স্বচ্ছন্দ।”
চাপের মুখে ‘কুল’ বৈভব
মাঠে বৈভবের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও শান্ত মেজাজ জাডেজাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে। অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের পর্যবেক্ষণ:
- মানসিক দৃঢ়তা: চাপের মুখেও বৈভবকে কখনও বিচলিত হতে দেখা যায়নি।
- নির্ভীক ব্যাটিং: বড় বোলারদের বিরুদ্ধেও নিজের স্বাভাবিক খেলা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে সে।
জাডেজা যোগ করেন, “ওর ঠান্ডা মাথা আমাকে অবাক করে। এই বয়সে এই গুণটি খুব কম ক্রিকেটারের মধ্যে থাকে। তাই যদি আমাদের দলের কাউকে ‘রকস্টার’ বলতে হয়, তবে সেটা অবশ্যই বৈভব।”
পরিসংখ্যানে উজ্জ্বল সূর্যবংশী
চলতি আইপিএলে বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাট কথা বলছে। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স যেকোনো অভিজ্ঞ ব্যাটারের কাছেও ঈর্ষণীয়:
- ম্যাচ: ১০
- রান: ৪০৪
- গড়: ৪০.৪০
- স্ট্রাইক রেট: ২৩৭.৬৪
- শতরান: ১টি
- অর্ধশতরান: ২টি
বর্তমানে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ বা কমলা টুপির দৌড়ে পাঁচ নম্বরে রয়েছে এই তরুণ ব্যাটার। ক্রিকেট মহলের একাংশ মনে করছে, বৈভব কেবল বর্তমানের সেনসেশন নয়, ভারতীয় ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ হতে চলেছে। আর সেই কারণেই হয়তো ওয়ার্নের দেওয়া বিশেষ তকমাটি বৈভবের হাতে সঁপে দিতে দ্বিধা করেননি জাডেজা।

