অপ্রতিরোধ্য গুজরাত টাইটান্স: রাজস্থানকে ৭৭ রানে চুরমার করে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শুভমনরা

অপ্রতিরোধ্য গুজরাত টাইটান্স: রাজস্থানকে ৭৭ রানে চুরমার করে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শুভমনরা

আইপিএলের মেগা লড়াইয়ে রাজস্থান রয়্যালসকে তাদের ঘরের মাঠেই পর্যুদস্ত করল গুজরাত টাইটান্স। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই দাপট দেখিয়ে ৭৭ রানে বিশাল জয় ছিনিয়ে নিল শুভমন গিলের দল। এই জয়ের ফলে টানা চার ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলের পঞ্চম স্থান থেকে একলাফে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল টাইটান্স বাহিনী। অন্যদিকে, পর পর দুই ম্যাচ হেরে প্লে-অফের লড়াইয়ে চাপে পড়ল রাজস্থান।


শুভমন-সুদর্শনের ব্যাটে রানের পাহাড়

শনিবার জয়পুরের সোয়াই মানসিং স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৯ রানের পাহাড় গড়ে গুজরাত। ওপেনিং জুটিতে শুভমন গিল ও সাই সুদর্শন পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে রেকর্ড ৮২ রান তোলেন। শুভমন ৪৪ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে সুদর্শন করেন ৩৬ বলে ৫৫ রান। মাঝের ওভারে রানের গতি সামান্য কমলেও শেষ দিকে ওয়াশিংটন সুন্দরের ২০ বলে ৩৭ এবং রাহুল তেওতিয়ার ৪ বলে ১৪ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ২২০-র গণ্ডি টপকে যায় গুজরাত।

আর্চারের ঐতিহাসিক ‘ভুল’ ও রাজস্থানের বোলিং বিপর্যয়

রাজস্থানের বোলিংয়ের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। জফ্রা আর্চার আইপিএলের ইতিহাসে বলের নিরিখে দীর্ঘতম ওভারটি করেন। ১১ বলের সেই ওভারে তিনি ৪টি ওয়াইড ও ১টি নো-বল করেন। ছন্দহীন আর্চারের এই ওভার থেকেই ম্যাচ হাতছাড়া হতে শুরু করে রাজস্থানের। এই নিয়ে টানা চার ম্যাচে ২২০-র বেশি রান খরচ করলেন রাজস্থানের বোলাররা।


যশস্বীর নেতৃত্বে রাজস্থানের ব্যাটিং ব্যর্থতা

চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলেননি নিয়মিত অধিনায়ক রিয়ান পরাগ। তাঁর অনুপস্থিতিতে নেতৃত্ব দেন যশস্বী জয়সওয়াল। ২৩০ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। রাবাডার বলে মাত্র ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক যশস্বী। বৈভব সূর্যবংশী ১৬ বলে ৩৬ রান করে আশা দেখালেও মহম্মদ সিরাজের বাউন্সারে আরশাদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

রাজস্থানের মিডল অর্ডারও তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে:

  • ধ্রুব জুরেল: ১০ বলে ২৪ রান।
  • শিমরন হেটমায়ার: মাত্র ৬ রান।
  • রবীন্দ্র জাডেজা: ২৮ বলে ৩৮ রান।

রশিদ খানের ঘূর্ণিতে কুপোকাত রয়্যালস

গুজরাতের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রশিদ খান। এক ওভারে জুরেল ও ফেরেরাকে ফিরিয়ে রাজস্থানের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দখল করেন এই আফগান স্পিনার। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দেন হোল্ডার (৩ উইকেট) ও রাবাডা। শেষ পর্যন্ত ১৬.৩ ওভারে মাত্র ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায় রাজস্থানের ইনিংস। ২১ বল বাকি থাকতেই অল-আউট হয়ে যায় তারা।


লিগ টেবিলের হালহকিকত

এই জয়ের পর ১১ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল গুজরাত টাইটান্স। শীর্ষে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদেরও পয়েন্ট ১৪, তবে রানরেটে তারা এগিয়ে। অন্যদিকে, পর পর হারে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে নেমে গেল রাজস্থান রয়্যালস। প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে আসন্ন ম্যাচগুলোতে বোলিং বিভাগকে ঢেলে সাজানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ যশস্বী-পরাগদের সামনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.