‘ইতিহাস বদলে দেওয়া যায় না’: ২০ জুনই হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস, দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘ইতিহাস বদলে দেওয়া যায় না’: ২০ জুনই হবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস, দায়িত্ব নিয়েই স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

শনিবার সকালে ব্রিগেডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দায়িত্বভার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক ও আদর্শগত দিশা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে গিয়ে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাসভবনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি ঘোষণা করেন যে, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন তারিখটিকেই সরকারিভাবে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তাঁর সরকার।


পশ্চিমবঙ্গ দিবস বিতর্ক ও শুভেন্দুর অবস্থান

পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সঙ্গে বিজেপির দীর্ঘদিনের সংঘাত সর্বজনবিদিত। ২০২৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করিয়ে ‘পয়লা বৈশাখ’ বা বাংলা নববর্ষকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার এই সিদ্ধান্তের পরিবর্তন চায়।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “১৯৪৭ সালের ২০ জুন যদি পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ না হতো, তবে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না। আমাদের অবস্থা হতো বাংলাদেশে থাকা সংখ্যালঘু হিন্দুদের মতো।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইতিহাসকে বদলে দেওয়া যায় না। আমি নিশ্চিতভাবে মন্ত্রিসভা এবং বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপন করব। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনই হওয়া উচিত পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস।”

শ্যামাপ্রসাদ ও প্রণবানন্দের অবদান স্মরণ

এদিন ভবানীপুর থেকে বালিগঞ্জের ভারত সেবাশ্রমেও যান মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ গঠনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “তৎকালীন আইনসভায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ ৫৮ জন সদস্য ভোট দিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি সেই সময় কংগ্রেস নেতাদের বলেছিলেন— তোমরা দেশভাগ করলে, আর আমি পাকিস্তানকে ভাগ করলাম।”

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন দলের তিন জয়ী প্রার্থী— তাপস রায়, শঙ্কর ঘোষ এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।


‘কালীঘাটের আশীর্বাদ ও পদ্মফুল’

শপথ নেওয়ার দিন সকালেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম দিন যখন কালীঘাটে মাকে প্রণাম করতে যাই, তখন মায়ের পা থেকে একটি পদ্মফুল আমার হাতে পড়েছিল। সেদিনই বুঝেছিলাম মা কালীর আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে আছে।”

মমতার জোটবার্তাকে পাল্টা তোপ

এদিন পরাজয়ের পর বাম ও অতিবাম দলগুলিকে বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁকে আক্রমণ করেন। শুভেন্দু বলেন, “আমি একটি কথাই বলব— তিনি রাজনীতিতে এখন অপ্রাসঙ্গিক। অপ্রাসঙ্গিক লোকেদের সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই শুভেন্দু অধিকারী বুঝিয়ে দিলেন যে, প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয় পুনর্গঠনেও তাঁর সরকার অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.