‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র ফুটেছে পদ্ম’: বাংলায় ঐতিহাসিক জয়ের পর দিল্লির মঞ্চে হুঙ্কার মোদীর

‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র ফুটেছে পদ্ম’: বাংলায় ঐতিহাসিক জয়ের পর দিল্লির মঞ্চে হুঙ্কার মোদীর

দাক্ষিণাত্যের তামিলনাড়ু থেকে পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ— বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই উৎসবের মেজাজ গেরুয়া শিবিরে। সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে বিজয়োল্লাসের মাঝে মঞ্চে অবতীর্ণ হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে এদিন ধরা দিল বাংলার জয়ের তৃপ্তি। স্পষ্ট ভাষায় তিনি ঘোষণা করলেন, “আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল।”


অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গে এনডিএ-র জয়জয়কার

এদিন ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় ‘অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ’-এর কথা। বিহার (অঙ্গ) এবং ওড়িশার (কলিঙ্গ) প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই রাজ্যগুলির মতো পশ্চিমবঙ্গের মানুষও এবার এনডিএ-র ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। মোদী স্মরণ করিয়ে দেন যে, বিহারের নির্বাচনের দিনই তিনি বলেছিলেন গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়। আজ তাঁর সেই কথা মিলে গিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্রই এবার পদ্ম ফুটেছে।


“বদলা নয়, বদল”: বাংলার হিংসা নিয়ে বার্তা

দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় চলা রাজনৈতিক হিংসার অবসান চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক হিংসায় অনেক মূল্যবান জীবন নষ্ট হয়েছে। এবার আর বদলা নয়, আমরা বদল চাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, এই জয় আসলে ভারতীয় সংবিধান এবং গণতন্ত্রের জয়। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথমবার ভয়ের পরিবেশ হারল এবং লোকতন্ত্র বা গণতন্ত্রের জয় হল।


শ্যামাপ্রসাদ ও অনুপ্রবেশ ইস্যু

বাংলায় বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যকে দলের আদর্শগত জয় হিসেবেও দেখছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয়ের পর জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।” পাশাপাশি, রাজ্যের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয় ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে তাঁর সরকার।


ঐতিহাসিক ভোটদানকে কুর্নিশ

এবারের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেন নরেন্দ্র মোদী। এত বিপুল সংখ্যায় মানুষ বুথে আসায় তিনি বাংলার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন পশ্চিমবঙ্গ-সহ চার রাজ্য এবং পুদুচেরির ভোটার ও কোটি কোটি দলীয় কর্মীকে জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান।


এক নজরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের মূল পয়েন্ট:

  • ভয়মুক্ত বাংলা: আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গ ভয়ের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেল।
  • গণতন্ত্রের জয়: হার-জিৎ স্বাভাবিক, তবে পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রকৃত গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।
  • সংবিধানের প্রাধান্য: এই ফলাফল ভারতের সংবিধানের শক্তির পরিচয় দেয়।
  • কর্মী সম্মান: প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লড়াই করার জন্য দলের প্রতিটি কর্মীকে কুর্নিশ।

এদিন দিল্লির সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছানোর আগেই উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মোদী মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয় দলীয় কর্মীদের স্লোগানে। বাংলার এই জয়কে ২০২৬-এর জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিজেপির সবথেকে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.