ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের পর এবার কি বাংলাতেও ফুটতে চলেছে পদ্ম? নাকি তৃণমূলের উপরেই পুনরায় আস্থা রাখবে রাজ্যের মানুষ? এই কোটি টাকার প্রশ্নের উত্তর পেতে আজ সকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনার দিকে নজর রয়েছে গোটা দেশের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র বাদে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনেই আজ চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নির্বাচনী বিধিভঙ্গের কারণে ফলতায় আগামী ২১ মে পুনরায় নির্বাচন হবে এবং ফলাফল ঘোষণা হবে ২৪ মে।
প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি শক্তিশালী উত্থান ঘটিয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক শিল্পাঞ্চলে বিজেপি প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
পরাজিত ও পিছিয়ে থাকা হেভিওয়েটরা
গণনার শুরু থেকেই অস্বস্তিতে রাজ্যের শাসক শিবির। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি আসনে তৃণমূল প্রার্থীদের পরাজয় নিশ্চিত হয়েছে:
- কান্দি: বিজেপি প্রার্থী গার্গী ঘোষ দাস ১০,৬৪৭ ভোটে তৃণমূলের অপূর্ব সরকারকে পরাজিত করেছেন।
- খড়গ্রাম: বিজেপির মিতালি মাল ৭,০০০-এর বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন।
- হাবড়া: রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পিছিয়ে রয়েছেন বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কাছে।
- বরাহনগর: তৃণমূলের তারকা প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিছনে ফেলে ৮,০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে সজল ঘোষ।
- মানিকতলা: বিজেপি প্রার্থী তাপস রায় অষ্টম রাউন্ড শেষে এগিয়ে রয়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় তৃণমূলের জন্য তাদের মন্ত্রীসভার রেকর্ড সংখ্যক সদস্যের পিছিয়ে থাকা। শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, মানস ভুঁইয়া এবং বীরবাহা হাঁসদা-সহ প্রায় ২৩ জন মন্ত্রী এই মুহূর্তে নিজ নিজ কেন্দ্রে পিছিয়ে রয়েছেন।
কোচবিহার ও উত্তরবঙ্গ: বিজেপির দাপট
উত্তরবঙ্গে গেরুয়া ঝড় অব্যাহত। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, কোচবিহারের ৯টি আসনেই বর্তমানে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। হুগলির উত্তরপাড়া কেন্দ্রে ষষ্ঠ রাউন্ডের শেষে ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে পিছনে ফেলে বিজেপি প্রার্থী লিড নিয়েছেন। অন্যদিকে, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমে বিজেপির পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায় ৩৫,০০০-এর বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে।
তৃণমূলের স্বস্তি ও বামেদের উচ্ছ্বাস
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু কেন্দ্রে লিড ধরে রেখেছে ঘাসফুল শিবির:
- বালিগঞ্জ: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৬৯,০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে।
- উলুবেড়িয়া পূর্ব: এগিয়ে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
- করিমপুর: সোহম চক্রবর্তী ২১,০০০ ভোটে এগিয়ে থেকে নিজের জয় নিশ্চিত করার পথে।
- হিঙ্গলগঞ্জ: তৃণমূলের আনন্দ সরকার ৩,৪৬৪ ভোটে এগিয়ে।
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে উপস্থিত তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সী দাবি করেছেন, “ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার ভোটে জয়ী হবেন।” এদিকে, ডোমকলে বাম প্রার্থী এগিয়ে থাকায় সিপিএম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ
ভোটগণনা চলাকালীন বেশ কিছু জায়গায় অশান্তির খবর পাওয়া গেছে। সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এছাড়া কল্যাণীর মুরাতিপুরে তৃণমূলের একটি পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
বিশেষ উল্লেখযোগ্য: পানিহাটি কেন্দ্রে আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার মা (বিজেপি প্রার্থী) বর্তমানে তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষের থেকে এগিয়ে রয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

