পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলা: প্রায় ৯ ঘণ্টা জেরার পর ইডি দফতর থেকে বেরোলেন সুজিত বসু

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলা: প্রায় ৯ ঘণ্টা জেরার পর ইডি দফতর থেকে বেরোলেন সুজিত বসু

দীর্ঘ টালবাহানার পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শুক্রবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দফতরে হাজিরা দিলেন রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী সুজিত বসু। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিন সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। সন্ধ্যা সোয়া সাতটা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে সুজিত বসু জানান, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং প্রয়োজনে আবারও আসবেন।


দীর্ঘ জেরার পর সুজিতের বয়ান

শুক্রবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিট নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছেছিলেন সুজিত বসু। টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর সন্ধ্যায় বেরোনোর সময় তাঁর বক্তব্যে একদিকে যেমন ছিল তদন্তে সহযোগিতার বার্তা, অন্যদিকে ছিল কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি। তিনি বলেন:

  • সাক্ষী হিসেবে হাজিরা: “আমি আজ সাক্ষী হিসেবে এসেছিলাম। ইডি যা সহযোগিতা চেয়েছে, আমি তা করেছি।”
  • হেনস্থার প্রতিবাদ: তদন্তকারীদের উদ্দেশ্যে বিদায়ী দমকলমন্ত্রীর বার্তা, “তদন্তে সহযোগিতা করতে আমার আপত্তি নেই। তবে হেনস্থা করার জন্য যেন আমায় ডাকা না হয়। আমি যে এই মামলায় যুক্ত নই, তা আমিও জানি আর ওরাও জানে।”
  • চার্জশিটে নাম নেই: সুজিতবাবুর দাবি, সিবিআই এই মামলায় ইতিমধ্যে যে চার্জশিট জমা দিয়েছে, সেখানে তাঁর নাম কোথাও নেই।

“ব্যবসা করা অপরাধ নয়, চুরি করা অপরাধ”

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন সুজিত বসু। তাঁর কথায়, “আমার দুটি রেস্তরাঁ আছে, সেটা সবাই জানেন। তবে ধাবাটি আমাদের নয়। স্বচ্ছভাবে ব্যবসা করা কখনও অপরাধ হতে পারে না, চুরি করাটাই অপরাধ।” উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে মন্ত্রীর আয়ের উৎস এবং ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে ইডি। মন্ত্রীর কাছ থেকে বেশ কিছু নথিপত্র চাওয়া হয়েছে, যা তিনি পরবর্তী সময়ে জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশে হাজিরা

পুরনিয়োগ মামলায় এর আগেও সুজিত বসুকে একাধিকবার তলব করেছিল ইডি। কিন্তু ভোটের কাজে ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, ১ মে সুজিত বসুকে ইডি দফতরে হাজিরা দিতেই হবে। আদালতের সেই সময়সীমা মেনেই এদিন হাজিরা দেন তিনি।


রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস

জেরার ধকল কাটিয়ে গাড়িতে ওঠার সময়ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে সুজিত বসুকে। ৪ মে ফলাফল প্রসঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “আমরাই জিতব, সরকার আমরাই গড়ব।”

রাজ্যে যখন একদিকে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন ভোটের ফলাফল প্রকাশের মাত্র তিন দিন আগে সুজিত বসুর এই দীর্ঘ জেরা রাজনৈতিক মহলে বাড়তি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ৪ মে-র ফলাফলের ওপর এই তদন্তের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.