ভোট পরবর্তী অশান্তির আঁচ কলকাতায়। গড়িয়ার পঞ্চসায়র এলাকায় এক বিজেপি এজেন্টের দফতরে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগে সাত জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের এক দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
হামলার বিবরণ ও এফআইআর
গত বুধবার, ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্চসায়র এলাকাটি যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, যেখানে ওই দিনই ভোট ছিল। বিজেপি এজেন্ট শান্তনু সরকারের স্ত্রী অঙ্কিতা সরকার এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এফআইআর-এ সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল এবং পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে ওই সাত জনকেই গ্রেফতার করেছে।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট
অঙ্কিতা সরকারের বয়ান অনুযায়ী, বুধবার ভোট প্রক্রিয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করে একদল দুষ্কৃতী। গাড়ির ওপর ইটবৃষ্টিও করা হয়। সশরীরে নিগৃহীত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা দ্রুত বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু তাঁদের সন্দেহ হয় যে, শান্তনু বাবুর অফিস বা দফতরেও হামলা হতে পারে।
“আমরা বাড়ি ফিরে অফিসে ফোন করতেই জানতে পারি যে সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং ক্যাশবাক্স থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে।” — অঙ্কিতা সরকার (অভিযোগকারিণী)
সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশের ভূমিকা
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, হামলার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা গেছে অফিসের সামনে একটি বড় জটলা তৈরি হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
পঞ্চসায়র থানার পুলিশ ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত তদন্ত শুরু করে। আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশের পক্ষ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করা হলে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। আদালত সাত অভিযুক্তকেই এক দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে। ভোট পরবর্তী এই হিংসার ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। ৪ মে ফলাফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত যাতে পরিস্থিতি আর অবনতি না হয়, তার জন্য এলাকায় টহলদারি বাড়িয়েছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, একই দিনে কলকাতায় কালবৈশাখীর পূর্বাভাস থাকলেও রাজনৈতিক আবহাওয়া তার চেয়েও বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনায়।

