দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে হুগলির গোঘাটে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনায় আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাঘ গুরুতর জখম হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ও বাইক ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়।
সংঘর্ষের ঘটনা: সোমবার গোঘাটের বর্মা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার প্রচার মিছিল চলাকালীন দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির মিছিল থেকে তাঁদের কর্মীদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রচারের গাড়িতে লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। পাল্টা অভিযোগে বিজেপি জানিয়েছে, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর করেছে।
এই সংঘর্ষের আবহে আরামবাগের সাংসদ মিতালী বাঘের গাড়িতেও হামলা হয়। অভিযোগ, বাঁশ ও রড দিয়ে সাংসদের গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়, যার ফলে কাঁচের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। তাঁকে তৎক্ষণাৎ আরামবাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রমণ: আহত সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে যান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “সিপিএমের হার্মাদরাই জার্সি বদলে বিজেপির জল্লাদ হয়েছে। যারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের শায়েস্তা করার দায়িত্ব আমি নিলাম।” তিনি আরামবাগবাসীকে ২০১১ সালের পরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে ২৯ এপ্রিল নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজেপির পাল্টা দাবি: পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগা তৃণমূলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “নিজেরা পাপ করে তা ঢাকতে তৃণমূল এখন মিথ্যা নাটক করছে। নিজেরাই নিজেদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।” বিজেপি এই ঘটনার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি গোঘাট থানার ওসির অপসারণের দাবি তুলেছে।
পুলিশের পদক্ষেপ: হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানিয়েছেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তল্লাশি জারি রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
সোমবারের এই ঘটনার পর থেকে বর্মা ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।

