চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শুক্রবার আইপিএলের এক হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে গুজরাতের দেওয়া ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দাপুটে জয় তুলে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)। সাই সুদর্শনের শতরান সত্ত্বেও বিরাট কোহলির বিধ্বংসী অর্ধশতরানে ভর করে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ফাফ দু’প্লেসির দল। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল আরসিবি।
ম্যাচের সংক্ষিপ্তসার:
- গুজরাত টাইটানস: ২০৫/৩ (২০ ওভার)
- আরসিবি: ২০৬/৫ (১৯.৪ ওভার)
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি: প্রথমে ব্যাট করতে নেমে সাই সুদর্শনের দুর্দান্ত শতরান এবং ওপেনিং জুটিতে ১২৮ রানের সুবাদে গুজরাত বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করেছিল। সুদর্শন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত শতরান পূর্ণ করেন। শুভমন গিল (৩২) এবং জস বাটলার (২৫) তাঁকে ভালো সঙ্গ দিলেও, ইনিংসের শেষ দিকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারানোয় গুজরাতের রানের গতি কিছুটা কমে যায়। শেষ ওভারে আরসিবির বোলাররা রাশ টেনে ধরায় গুজরাত ২৫০-র দিকে এগোলেও শেষ পর্যন্ত ২০৫ রানেই আটকে যায়।
কোহলি-পডিক্কলের বিধ্বংসী পার্টনারশিপ: জবাবে ব্যাট করতে নেমে আরসিবির শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। ওপেনার জেকব বেথেল মাত্র ১৪ রান করে আউট হন। তবে এরপরই কোহলি ও দেবদত্ত পডিক্কল মিলে চিন্নাস্বামীর দর্শকদের উপহার দেন এক বিধ্বংসী ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে এই জুটি ১১৭ রান যোগ করে ম্যাচের ভাগ্য নিশ্চিত করে দেয়। পডিক্কল ২৭ বলে ৫৫ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৬টি বিশাল ছক্কা।
বিরাট কোহলি ৪৪ বলে ৮১ রানের একটি মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন। ৮টি চার এবং ৪টি ছক্কা দিয়ে সাজানো এই ইনিংসে শতরানের হাতছানি থাকলেও, জেসন হোল্ডারের বলে প্লেড-অন হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। প্যাভিলিয়নে ফেরার সময় দর্শকদের অভিবাদনের জবাবে ব্যাট উঁচিয়ে ধন্যবাদ জানান প্রাক্তন অধিনায়ক।
শেষ মুহূর্তের টানটান উত্তেজনা: কোহলি ফেরার পর রজত পাটীদার (৮) ও জিতেশ শর্মা (১০) দ্রুত আউট হলে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু টিম ডেভিড (অপরাজিত ১০) ও ক্রুণাল পাণ্ড্য (অপরাজিত ২৩) মাথা ঠান্ডা রেখে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
উল্লেখ্য, বেঙ্গালুরুতে এটাই ছিল আরসিবির শেষ ‘হোম ম্যাচ’। পয়েন্ট তালিকায় দুইয়ে উঠে আসায় প্লে-অফের লড়াইয়ে তারা আরও কিছুটা স্বস্তির জায়গায় পৌঁছে গেল। অন্যদিকে, মাঝের ওভারে রানের গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার মাসুল দিতে হলো গুজরাতকে।

