পূর্বাভাস মিলিয়ে সোমবার থেকেই রাজ্যে বেড়েছে তাপমাত্রার পারদ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই দিনে গরম আরও কিছুটা বাড়বে। তবে দহনজ্বালার মাঝেই স্বস্তির খবর— পয়লা বৈশাখে রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। তবে বৃষ্টি হলেও গরম বা অস্বস্তি থেকে এখনই সম্পূর্ণ মুক্তি মিলছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
বাড়বে তাপমাত্রা, বজায় থাকবে অস্বস্তি
আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা আরও প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এরপর পরবর্তী পাঁচ দিন তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। ফলে বৃষ্টির স্থায়িত্ব কম হওয়ায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি বজায় থাকবে।
পয়লা বৈশাখে বৃষ্টির পূর্বাভাস
আগামী বুধবার অর্থাৎ পয়লা বৈশাখে দক্ষিণবঙ্গের ৫টি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জেলাগুলি হলো:
- পুরুলিয়া
- বাঁকুড়া
- ঝাড়গ্রাম
- পশ্চিম বর্ধমান
- পশ্চিম মেদিনীপুর
এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর এই জেলাগুলির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। একইসঙ্গে এই জেলাগুলিতে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার জন্যও সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর আবহাওয়া
- বৃহস্পতিবার: পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।
- শুক্রবার: কালবৈশাখীর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে। অন্যদিকে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে গরমের দাপট বজায় থাকবে।
- রবিবার পর্যন্ত: রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির এই পরিস্থিতি বিক্ষিপ্তভাবে চলতে পারে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
পয়লা বৈশাখে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারেও কালবৈশাখীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় আগামী রবিবার পর্যন্ত এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকবে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণ
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি উচ্চচাপ বলয় অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ অসম থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে দক্ষিণ তামিলনাড়ু পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। মূলত এই দুই ভৌগোলিক পরিস্থিতির প্রভাবেই রাজ্যে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

