লক্ষ্য বুথ বিজয়: ভোটের মুখে বাংলার বিজেপি কর্মীদের ‘ছয় দাওয়াই’ প্রধানমন্ত্রী মোদীর

লক্ষ্য বুথ বিজয়: ভোটের মুখে বাংলার বিজেপি কর্মীদের ‘ছয় দাওয়াই’ প্রধানমন্ত্রী মোদীর

রাজ্যে প্রথম দফার লোকসভা নির্বাচনের ঠিক ন’দিন আগে বঙ্গ বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে বড়সড় রণকৌশল বাতলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার ‘নমো অ্যাপ’-এর মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন তিনি। সেখানে আসন্ন নির্বাচনে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে এবং তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে কর্মীদের জন্য ‘ছয় দাওয়াই’ বা বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেন প্রধানমন্ত্রী।

কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়

প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাছাই করা পাঁচজন বুথ কর্মীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। কসবার রিনা দে, ফাঁসিদেওয়ার জুরা কিন্ডো, বাঁকুড়ার নীলোৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়, শালবনির চন্দন প্রধান এবং শান্তিপুরের রাকেশ সরকারের থেকে নিচুতলার পরিস্থিতির খতিয়ান নেন তিনি। কর্মীরা মূলত রাজ্যের দুর্নীতি, আবাস যোজনার টাকা না পাওয়া এবং চা বাগানের জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রীর ‘ছয় দাওয়াই’

১. বুথ স্তরে সর্বশক্তি নিয়োগ: প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, কর্মীদের এখন সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে বুথে। তাঁর কথায়, “বুথে সর্বশক্তি লাগিয়ে দিন।” ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিজেপির ইস্তাহার ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে আনা ‘চার্জশিট’ তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

২. মহিলা ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন: সন্দেশখালি, আরজি কর এবং ল’কলেজের ঘটনার মতো নারী নির্যাতনের ইস্যুগুলোকে ভিডিওর মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরতে বলেন মোদী। মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং ইস্তাহারে যুবকদের জন্য কী কী সুবিধা রয়েছে, তা বিশদে বোঝানোর নির্দেশ দেন তিনি।

৩. শিল্প ও কর্মসংস্থানের অভাব: কেন পশ্চিমবঙ্গে কল-কারখানা হচ্ছে না এবং কেন তরুণদের ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে যেতে হচ্ছে, তা নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “তৃণমূল সরকারই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে, আর যেখানে দাঙ্গা বা হিংসা হয়, সেখানে ব্যবসা হতে পারে না।”

৪. মতুয়া ও সিএএ সুরক্ষা: মতুয়া ও নমশূদ্র পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে সিএএ (CAA) নিয়ে তৃণমূলের ছড়ানো ‘ভীতি’ দূর করার নির্দেশ দেন মোদী। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সিএএ-র মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

৫. জয়ের ব্যবধান বৃদ্ধি: কেবল জয় নয়, জয়ের ব্যবধান বাড়াতেও জোর দিয়েছেন তিনি। মোদীর মতে, “জয়ের ব্যবধান যত বড় হবে, পশ্চিমবঙ্গ তত স্বস্তি পাবে।”

৬. কৃষক ও আলুচাষিদের দুর্দশা: সিন্ডিকেট রাজের কারণে কৃষকরা ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ২ টাকা কেজি দরে আলু কিনে ২৫ টাকায় বিক্রির যে ‘লুট’ চলছে, তা চাষিদের সামনে ফাঁস করার দাওয়াই দেন তিনি।

‘চার্জশিট’ ও অপরাধীদের তালিকা

প্রধানমন্ত্রী কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, নিজ নিজ এলাকায় তৃণমূলের আশীর্বাদধন্য অপরাধী ও দুষ্কৃতীদের একটি তালিকা তৈরি করতে। ভোটারদের বোঝাতে হবে যে, থানাতেও গুন্ডারা বসে রয়েছে এবং এই অরাজকতা থেকে মুক্তি পেতেই বিজেপির ‘ছয় গ্যারান্টি’ গুরুত্বপূর্ণ।

নির্বাচনের প্রাক্কালে মোদীর এই ভার্চুয়াল বৈঠক এবং নির্দিষ্ট রণকৌশল বঙ্গ বিজেপির কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা জোগাবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.