লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নামল লালবাজার। শহরের বিভিন্ন থানায় জমে থাকা বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানাগুলি (Arrest Warrants) দ্রুত কার্যকর করার জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। লালবাজারের স্পষ্ট বার্তা— হয় পরোয়ানাভুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে, নয়তো কেন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না, তার সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হবে।
পরোয়ানা কার্যকরে বিশেষ জোর
নির্বাচন কমিশন আগেই জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা (Non-Bailable Warrant) কার্যকরের ব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছিল। এবার লালবাজারের নির্দেশিকায় শুধুমাত্র জামিন-অযোগ্য নয়, বরং জামিনযোগ্য পরোয়ানার ক্ষেত্রেও থানাগুলিকে সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
- বকেয়া পরোয়ানাগুলির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে।
- কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তার কারণ উল্লেখ করতে হবে।
- নির্বাচনের আগে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পুলিশকর্মীদের আচরণ ও নিয়মবিধি
নির্বাচন চলাকালীন পুলিশকর্মীদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে লালবাজার। লক্ষ্য করা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে সরকারি নিয়মবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে লালবাজারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি পুলিশকর্মীকে নির্ধারিত আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
উল্লেখ্য, সুপ্রতিম সরকার কলকাতার পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন সমাজমাধ্যমে পুলিশকর্মীদের আচরণের বিষয়ে যে ১৫ দফা নির্দেশিকা জারি করেছিলেন, নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দের আমলেও সেই বিধি বলবৎ থাকছে। পুলিশকর্মীরা যেন সমাজমাধ্যমে কোনোভাবেই পক্ষপাতমূলক বা বিতর্কিত আচরণ না করেন, সোমবারের নির্দেশিকায় তা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নজরদারি
রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে নীচুতলা পর্যন্ত কর্মীদের জন্য কমিশন ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে:
- যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।
- বিগত নির্বাচনের অমীমাংসিত অপরাধমূলক মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
- ভোটের সময় সমস্ত সরকারি কর্মচারী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবেন, ফলে যেকোনো গাফিলতিতে কমিশন সরাসরি বিভাগীয় বা আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে।
কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করাই এখন লালবাজারের প্রধান লক্ষ্য। থানাগুলির কর্মতৎপরতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।

