চেন্নাই জয় করে লিগ টেবিলের তিনে ইস্টবেঙ্গল: মোহনবাগানকে টপকে জয়ে ফিরল লাল-হলুদ ব্রিগেড

চেন্নাই জয় করে লিগ টেবিলের তিনে ইস্টবেঙ্গল: মোহনবাগানকে টপকে জয়ে ফিরল লাল-হলুদ ব্রিগেড

মরসুমের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটাল ইস্টবেঙ্গল এফসি। চেন্নাইয়িন এফসি-কে তাদের ঘরের মাঠে ৩-১ গোলে পরাজিত করে আইএসএল (ISL) টেবিলের তিন নম্বরে উঠে এল অস্কার ব্রুজোর দল। এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ দাঁড়াল ১৪ পয়েন্ট। সমসংখ্যক ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পয়েন্টও ১৪ হলেও, গোল পার্থক্যে তাদের টপকে তিনে জায়গা করে নিল লাল-হলুদ শিবির।


প্রথমার্ধ: দাপট ও গোলের লড়াই

চোট সারিয়ে এই ম্যাচে প্রথম একাদশে ফিরেছিলেন ডিফেন্ডার কেভিন সিবিলে এবং মাঝমাঠের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মহম্মদ রশিদ। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই সাউল ক্রেসপোর ফ্রি-কিক থেকে মিগুয়েলের হেডার চেন্নাই গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ রুখে না দিলে তখনই লিড নিতে পারত ইস্টবেঙ্গল।

তবে কাঙ্ক্ষিত গোল আসে সপ্তম মিনিটেই। মাঝমাঠে বল হারিয়ে শুয়ে পড়েন চেন্নাইয়ের এলসিনহো। রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলে ক্রেসপো বল বাড়িয়ে দেন এডমুন্ডকে। ঠাণ্ডা মাথায় ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এডমুন্ড। এরপর ২০ মিনিটে চেন্নাইয়ের ইরফানের হেডার পোস্টে লেগে ফিরলে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় ইস্টবেঙ্গল।

প্রভসুখনের ভুল ও ম্যাচে ফেরা

ম্যাচের মাঝপথে ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন গিল এক অদ্ভুত ভুল করে বসেন। অনেকটা এগিয়ে আসা প্রভসুখন পজিশন নিতে দেরি করায় সেই সুযোগে তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান চেন্নাইয়ের ইরফান। বিরতির আগে পিভি বিষ্ণু গোলকিপারকে কাটিয়েও সুযোগ নষ্ট করায় সমতাতেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।


দ্বিতীয়ার্ধ: শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিট চেন্নাইয়িন বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করে। ড্যানিয়েল চিমাচুকুর সামনে গোলের সুযোগ এলেও তিনি তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, ৬৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের ইউসেফ এজ়েজারি গোল করার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, কিন্তু নওয়াজ আঙুলের টোকায় বল বাইরে বের করে দেন।

ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই দৃশ্যপট বদলে দেয় ইস্টবেঙ্গল। বিষ্ণুর অসাধারণ একটি ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বিপিন। এরপর ম্যাচের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন ‘ঘরের ছেলে’ নন্দকুমার শেখর। জিকসন সিংয়ের পাস থেকে মিগুয়েল হয়ে বল পান নন্দ। এক ঝটকায় বল নিয়ন্ত্রণ করে নিখুঁত শটে গোল করে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। নিজের রাজ্যের দলের বিরুদ্ধেই গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে তিন পয়েন্ট এনে দেন এই উইঙ্গার।

লিগ টেবিলের সমীকরণ

এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় বড় লাফ দিল ইস্টবেঙ্গল। ঘরের মাঠে টানা সাফল্যের পর বিদেশের মাটিতেও এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল কয়েক গুণ। সামনের ম্যাচগুলিতে এই ছন্দ ধরে রাখাই এখন কোচ অস্কার ব্রুজোর প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.