‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব’: হরমুজ ইস্যুতে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, যুদ্ধবিরতির দাবি ওড়াল তেহরান

‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব’: হরমুজ ইস্যুতে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, যুদ্ধবিরতির দাবি ওড়াল তেহরান

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হলেও, কথার লড়াইয়ে পারদ চড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক বিস্ফোরক পোস্টে ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থাকে পরোক্ষ প্রশংসা ও সরাসরি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছে; যদিও তেহরান এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

ট্রাম্পের বিতর্কিত পোস্ট ও শর্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রেসিডেন্ট, যিনি তাঁর পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক কম উগ্র এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান, সম্প্রতি আমেরিকার কাছে একটি যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করেছেন!” তবে এই অনুরোধ বিবেচনার জন্য ট্রাম্প একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন:

  • শর্ত: হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে অবরোধমুক্ত এবং পরিষ্কার করতে হবে।
  • হুঁশিয়ারি: যতক্ষণ না এই শর্ত পূরণ হচ্ছে, আমেরিকা ইরানকে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করার কাজ চালিয়ে যাবে। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

তেহরানের পাল্টা জবাব ও ধোঁয়াশা

ট্রাম্পের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের বিদেশ দফতর। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এটি একটি অসত্য এবং ভিত্তিহীন দাবি। আমাদের তরফ থেকে কোনো যুদ্ধবিরতির অনুরোধ করা হয়নি।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ‘নতুন শাসনব্যবস্থা’ বললেও নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ করেননি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘অপারেশন লায়নস রোর’-এ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতা কাঠামোয় পরিবর্তন এসেছে। একদিকে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, অন্যদিকে খামেনেই-পুত্র মোজতবা। ট্রাম্পের ইঙ্গিত ঠিক কার দিকে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ঘনীভূত হচ্ছে বিশ্ব জ্বালানি সংকট

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে হাহাকার শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে এপ্রিল মাসে জ্বালানি সংকট মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। এর আগে ৩০ মার্চ ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, অবরোধ না তুললে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেলের খনিগুলো ধ্বংস করা হবে।

প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন ‘বাঙ্কার ব্লাস্টার’ বোমায় খামেনেইসহ শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর ইরান বর্তমানে এক ক্রান্তিকাল পার করছে। ইরানের নতুন নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের কোনো ‘চাপিয়ে দেওয়া শর্ত’ তারা মানবে না। এই অনড় অবস্থানের মাঝে ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি অনুরোধের’ দাবি নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.