দেশে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য চলমান ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার মধ্যেই এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে আধার কর্তৃপক্ষ (UIDAI)। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মৃত ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবহার করে তাঁদের আধার কার্ড চিরতরে নিষ্ক্রিয় করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এই লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে মৃত ভোটারদের তথ্য চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় কমিশন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানা গিয়েছে।
কেন এই উদ্যোগ?
ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) নির্দিষ্ট সময় অন্তর মৃত ব্যক্তিদের আধার নিষ্ক্রিয় করে থাকে। সংস্থার দাবি, মৃত ব্যক্তিদের আধার কার্ড ব্যবহার করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ বা জালিয়াতির ঘটনা রুখতেই এই পদক্ষেপ। গত নভেম্বর মাসেই বিভিন্ন সরকারি তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে প্রায় ২ কোটিরও বেশি আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এবার নির্বাচন কমিশনের এসআইআর তালিকার তথ্যের ওপর ভরসা করতে চাইছে তারা।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি
এসআইআর প্রক্রিয়ায় মৃত ভোটার শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে এসেছে:
- পশ্চিমবঙ্গ: রাজ্যে প্রায় ২৪ লক্ষ ভোটারের নাম ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। তবে আধার কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ আধার কার্ডধারীকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- বিহার: ২০১৫ সালে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় বিহারে প্রায় ২২ লক্ষ মৃত ভোটার শনাক্ত হয়েছে।
- নিবন্ধহীনতা: তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৩ লক্ষ বাসিন্দা এখনও আধারে নথিভুক্ত হননি।
কমিশনের দ্বিধা ও গোপনীয়তার প্রশ্ন
ফেব্রুয়ারি মাসেই ইউআইডিএআই কমিশনকে চিঠি লিখে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের মৃত ভোটারদের তথ্য চেয়েছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কমিশন একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা। এসআইআর-এর তথ্য একমাত্র কমিশনেরই অধিকারভুক্ত এবং তা বাইরের কোনও সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা যায় না। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।
নিষ্ক্রিয়করণের প্রক্রিয়া ও সুবিধা
ইউআইডিএআই স্পষ্ট করেছে যে, মৃত ব্যক্তির আধার কার্ডটি কেবল নিষ্ক্রিয় (Deactivate) করা হবে, কিন্তু তাঁর আধার নম্বরটি তথ্যভাণ্ডার থেকে মোছা হবে না।
- ইউনিক নম্বর: আধার নম্বরটি ইউনিক হওয়ায় তা রেখে দেওয়া হয় যাতে ভবিষ্যতে ওই নম্বরটি অন্য কাউকে বরাদ্দ না করা যায়।
- জালিয়াতি রোধ: কার্ডটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে অবৈধ পথে সরকারি সুবিধা নেওয়া বা নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় আটকে যাবে।
আধার কর্তৃপক্ষের মতে, বর্তমানে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার তুলনায় নির্বাচন কমিশনের কাছে মৃত ব্যক্তিদের তথ্য বেশি নির্ভুল ও আপডেটেড রয়েছে। তবে ২০২৭ সালের আদমশুমারির পরেই মৃত ও জীবিত আধার কার্ডধারীদের সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

