অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণের তিন দিন অতিক্রান্ত হলেও তাঁর মৃত্যুরহস্য ঘিরে টলিপাড়ায় গুঞ্জন থামার লক্ষণ নেই। গত ২৯ মার্চ তালসারির সমুদ্রে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন তাঁর তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বুধবার এক নতুন ও বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। শোনা যাচ্ছে, ধারাবাহিকের পূর্বপরিকল্পিত চিত্রনাট্য মেনেই নাকি ওইদিন গভীর জলে শুটিং চলছিল।
চিত্রনাট্য ও ‘মধুচন্দ্রিমা’র দৃশ্য: কী ছিল পরিকল্পনা?
টেলিপাড়ার অন্দরের খবর অনুযায়ী, ধারাবাহিকের গল্পে নায়ক ‘উজান’ ওরফে রাহুলের মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে জলে ডুবেই। সেই অনুযায়ী গভীর জলে নেমে শুটিং করছিলেন রাহুল ও নায়িকা শ্বেতা মিশ্র। অভিযোগ উঠেছে, এই ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ের জন্য স্থানীয় থানার কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তার খাতিরে মাত্র একজন নুলিয়া ছাড়া আর কোনও ব্যবস্থাই ছিল না।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তথ্যের উৎস হিসেবে আঙুল তোলা হচ্ছে খোদ প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এরই এক অংশের দিকে। যদিও কাহিনিকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে, তাঁর চিত্রনাট্যে গভীর জলে নেমে শুটিং করার কোনও নির্দেশ ছিল না।
পরস্পরবিরোধী বয়ান ও ধোঁয়াশা
ঘটনাটিকে ঘিরে একাধিক পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে আসছে:
- পরিচালকের দাবি: পরিচালক শুভাশিস মণ্ডলের মতে, রাহুল নিজেই নাকি জলে নেমে কিছু দৃশ্যের শুটিং করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
- রাহুলের পুরনো সাক্ষাৎকার: অথচ মাসখানেক আগে এক সাক্ষাৎকারে রাহুল জানিয়েছিলেন, তিনি লীনাদির সাজিয়ে দেওয়া ছকের বাইরে কিছুই করেন না।
- নায়িকা শ্বেতার বক্তব্য: এক ভিডিও বার্তায় বিপর্যস্ত শ্বেতা মিশ্র জানিয়েছেন, তাঁরা দুজনেই গভীর জলে গিয়ে শুটিং করছিলেন এবং দুজনেই পড়ে যান। শ্বেতা কোনওক্রমে ফিরলেও রাহুল আর ফিরতে পারেননি।
পুরনো গল্পের ধাঁচ ও নতুন সমীকরণ
টলিপাড়ার একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘ধুলোকণা’-সহ একাধিক ধারাবাহিকে নায়কের মৃত্যু এবং নায়িকার জীবনে পুরনো প্রেমের ফিরে আসার ভঙ্গি অত্যন্ত পরিচিত। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’তেও নাকি তেমনটাই হওয়ার কথা ছিল। ধারাবাহিকে কুইনের (শ্বেতা) প্রাক্তন প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করা সিদ্ধার্থ সেনকেও তালসারির আউটডোর শুটিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা গিয়েছে। গুঞ্জন উঠেছে, কুইনের জীবনে তাঁর প্রাক্তনকে ফিরিয়ে আনতেই কি উজানের মৃত্যুর দৃশ্য পরিকল্পনা করা হয়েছিল?
পদত্যাগ করছেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়
এই গোটা ঘটনায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। রাহুল তাঁর অত্যন্ত প্রিয় অভিনেতা ছিলেন। বুধবার এক বিবৃতিতে প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিতে চান।
তদন্তের জল এখন কতদূর গড়ায় এবং চিত্রনাট্যের এই রহস্যময় সমাপতন কেবলই কি কাকতালীয় নাকি গাফিলতি— তা নিয়ে উত্তাল স্টুডিও পাড়া।

