সিইও দফতরে ‘তাণ্ডব’: কড়া পদক্ষেপ কমিশনের, স্ট্র্যান্ড রোড চত্বরে ১৬৩ ধারার পরিধি বাড়াল পুলিশ

সিইও দফতরে ‘তাণ্ডব’: কড়া পদক্ষেপ কমিশনের, স্ট্র্যান্ড রোড চত্বরে ১৬৩ ধারার পরিধি বাড়াল পুলিশ

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-এর দফতরের সামনে গত মঙ্গলবার রাতের নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ‘তাণ্ডব’-এর জেরে বুধবারও থমথমে রইল স্ট্র্যান্ড রোড চত্বর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুলিশকে ১৬৩ ধারার (প্রাক্তন ১৪৪ ধারা) পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবারের ঘটনাকে ‘অসামাজিক কাজ’ হিসেবে দেগে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি বার্তার হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের কড়া অবস্থান ও কাউন্সিলরকে হুঁশিয়ারি

মঙ্গলবার রাতের বিক্ষোভকে ‘দুষ্কৃতীদের অসামাজিক কাজকর্ম’ বলে অভিহিত করেছে কমিশন। বিশেষ করে বেলেঘাটার তৃণমূল কাউন্সিলরের উপস্থিতিতে গভীর রাতে যে স্লোগান ও ঘেরাও কর্মসূচি চলেছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়:

“বেলেঘাটার কাউন্সিলর কয়েকজন দুষ্কৃতীকে সঙ্গে নিয়ে সিইও দফতর ঘেরাও করেন। এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আইন নিজের পথে চলবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করবে।”

১৬৩ ধারার পরিধি বিস্তার

বুধবার সকালে এলাকা শান্ত থাকলেও দুপুরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্ট্র্যান্ড রোডের একটি বড় অংশে ১৬৩ ধারা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP)। নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী:

  • সিইও অফিসের সামনের রাস্তা ও দু’পাশের ফুটপাতে জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
  • কয়লাঘাট ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্ত এলাকাকে এই বিধিনিষেধের আওতায় আনা হয়েছে।
  • যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা রুখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবারের ঘটনাক্রম: পুনরায় বিক্ষোভ ও যানজট

বুধবার দুপুরে সিইও মনোজ আগরওয়াল যখন দফতরে ঢুকছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা (BLO) তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। একই সময়ে এসইউসিআই (SUCI)-এর কর্মী-সমর্থকরাও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এর ফলে স্ট্র্যান্ড রোডে দীর্ঘক্ষণ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে বিকেল গড়াতেই চত্বরটি মোটের উপর ফাঁকা হয়ে যায়।

বিতর্কের সূত্রপাত: ‘ফর্ম ৬’ ঘিরে সংঘাত

গত সোমবার থেকেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনপত্র বা ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযোগ ওঠে যে, ব্যাগভর্তি ফর্ম ৬ নিয়ে কয়েকজন সিইও দফতরে প্রবেশ করেছেন। এই খবর ছড়াতেই তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা প্রতিবাদ শুরু করেন। পরিস্থিতি জটিল হয় যখন সেখানে বিজেপি কর্মীরা উপস্থিত হন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও হাতাহাতির উপক্রম সামলাতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যারিকেড দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দফতর চত্বরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক দাপাদাপি বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনা প্রশাসনিক স্তরে বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.