লোকসভা নির্বাচনের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের সমর্থনে প্রচার চলাকালীন হওয়া এই হামলায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা। ঘটনার দায়বদ্ধতা নির্ধারণে রাজ্য পুলিশের ডিজি-র কাছে একাধিক কৈফিয়ত চেয়েছে কমিশন।
কমিশনের কঠোর প্রশ্নমালা
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, কমিশন মূলত তিনটি বিষয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে জবাব চেয়েছে: ১. পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন ঘটনাস্থলে মাত্র দুই সেকশন বাহিনী পাঠানো হয়েছিল? ২. উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর বাহিনী পৌঁছাতে কেন দেরি হলো? ৩. প্রশাসনের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই মিছিল আয়োজিত হলো?
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষ
বৃহস্পতিবার বাসন্তীতে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের সমর্থনে দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রচার চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা ওই প্রচারের ভিডিওগ্রাফি করছিলেন। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, একদল দুষ্কৃতী বিজেপির মিছিলে ঢুকে হামলা চালায় এবং রাস্তার ধারে থাকা দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা
বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার (SP) শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন। তবে ঘটনার সময় বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার সশরীরে উপস্থিত ছিলেন না বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, পুলিশের চোখের সামনেই এই তাণ্ডব চলেছে এবং প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার। তিনি পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এবং অভিযোগ করেন যে, “তৃণমূল হারের ভয়ে এখন সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গিয়েছে।

