ব্যাডমিন্টন বিশ্বের অন্যতম বর্ণময় এক অধ্যায়ের অবসান ঘটল। ৩২ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ক্যারোলিনা মারিন। বৃহস্পতিবার আবেগঘন এক বার্তায় মারিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, শরীরের ওপর আর ঝুঁকি নিতে রাজি নন তিনি।
চোটের কাছে হার মানলেন ‘ব্যাডমিন্টন কুইন’
গত কয়েক বছর ধরেই হাঁটুর গুরুতর চোট মারিনের কেরিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রিও অলিম্পিক্সের সোনাজয়ী এই শাটলার জানিয়েছিলেন, আসন্ন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি হিসেবে নিজের শহরে খেলার সুযোগ ছিল তাঁর। কিন্তু প্রস্তুতির সময় তিনি বুঝতে পারেন, পেশাদার স্তরে খেলার মতো অবস্থায় তাঁর শরীর নেই। মারিন বলেন,
“আজ সরাসরি কথাটি বলতে চাই— পেশাদার ব্যাডমিন্টনে আমার যাত্রা শেষ। আমি আর ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে নামব না। আর একবার অন্তত ফাইনাল খেলার ইচ্ছা ছিল আমার, কিন্তু তাতে চোটের ঝুঁকি অনেকটা বেড়ে যেত।”
বর্ণাঢ্য কেরিয়ার ও ভারত সংযোগ
ভারতীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে মারিন অত্যন্ত পরিচিত নাম। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিক্সের ফাইনালে ভারতের পিভি সিন্ধুকে হারিয়েই তিনি সোনা জিতেছিলেন। সেই হাই-ভোল্টেজ লড়াই আজও ব্যাডমিন্টন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হয়। সিন্ধু ছাড়াও ভারতের অপর কিংবদন্তি সাইনা নেহওয়ালের সঙ্গেও তাঁর দ্বৈরথ ছিল চোখে পড়ার মতো। উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই চোটের কারণে অবসর নিয়েছিলেন সাইনাও। দুই প্রাক্তন এক নম্বর তারকার একই বছরে বিদায় মহিলা ব্যাডমিন্টনে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল।
এক নজরে ক্যারোলিনা মারিনের সাফল্য:
- অলিম্পিক্স: ২০১৬ রিও অলিম্পিক্সে স্বর্ণপদক।
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ: তিনবার বিশ্বসেরার খেতাব (২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৮)।
- র্যাঙ্কিং: বিশ্বের প্রাক্তন ১ নম্বর মহিলা শাটলার।
- ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ: একাধিকবার খেতাব জয়।
পেশাদার কেরিয়ারে সোনা, রুপো আর অজস্র ট্রফি জিতলেও মারিন জানিয়েছেন, নিজের শরীরের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার কথা ভেবেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বিদায়ে স্পেনের ক্রীড়া মহল তো বটেই, বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থা (BWF)-ও এই কিংবদন্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছে।

