দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়ার তেঁতুলতলা এলাকায় বিউটি পার্লারের মালকিন রূপবাণী দাস (পম্পা) হত্যাকাণ্ড এবং তাঁর প্রেমিক পঙ্কজ নাথের আত্মহত্যার ঘটনায় পরকীয়া সম্পর্কের টানাপড়েনকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, হরিয়ানার বাসিন্দা পঙ্কজের সঙ্গে সমাজমাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পর থেকে রূপবাণীর পারিবারিক জীবনে অশান্তি শুরু হয়েছিল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রায় ১৫ বছর ধরে গড়িয়ার তেঁতুলতলায় পার্লার চালাতেন বছর চল্লিশের রূপবাণী। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পম্পাদি’ নামেই পরিচিত ছিলেন। পরিবার সূত্রে খবর, বেশ কিছুকাল আগে হরিয়ানার যুবক পঙ্কজের সঙ্গে তাঁর প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক তৈরি হয়। পঙ্কজ বয়সে রূপবাণীর চেয়ে কয়েক বছরের ছোট ছিলেন। মাসখানেক আগে রূপবাণী তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানকে ছেড়ে হরিয়ানায় পঙ্কজের কাছে চলে গিয়েছিলেন। তবে মাস দুয়েক আগে তিনি আবার কলকাতায় ফিরে আসেন এবং পরিবারের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি প্রেমিকের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
বুধবারের রক্তক্ষয়ী দুপুর
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে রূপবাণীর স্বামী অনুপকুমার দাস তাঁকে বাইকে করে পার্লারে পৌঁছে দিয়ে যান। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই হরিয়ানা থেকে আসা পঙ্কজ পার্লারে ঢোকেন এবং ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ দু’জনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি এবং ধস্তাধস্তি হয়। এরপর পঙ্কজ রক্তাক্ত অবস্থায় পার্লার থেকে বেরিয়ে বাইরে লুটিয়ে পড়েন। ভিতরে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় রূপবাণীকে। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করলে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো অস্ত্র এবং দু’জনের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে, যা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃতার স্বামী ইতিমধেই নরেন্দ্রপুর থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হরিয়ানা ও কলকাতার যোগসূত্র
পঙ্কজের পরিবারের দাবি, রূপবাণী যখন হরিয়ানায় গিয়েছিলেন, তখন পঙ্কজ তাঁকে পরিবারের কাছে ‘স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। হঠাৎ করে রূপবাণী যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় পঙ্কজ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, রূপবাণী যখন নিখোঁজ ছিলেন, তখন পরিবারের তরফে একটি ‘মিসিং ডায়েরি’ও করা হয়েছিল। তদন্তের স্বার্থে পঙ্কজের পরিবারকে হরিয়ানা থেকে কলকাতায় তলব করা হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘পম্পাদি’র এমন পরিণতিতে হতবাক এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কথায়, “পম্পাদির ব্যবহার অত্যন্ত ভালো ছিল, ব্যবসা ও সংসার দু’টোই ভালো চলত। এমন ঘটনা ঘটবে তা ভাবতেই পারছি না।” পুলিশ আপাতত পার্লারটি সিল করে দিয়ে ঘটনার পুনর্গঠন ও মোবাইলের কল লিস্ট খতিয়ে দেখে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

