ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (IPL)-এর আসন্ন মরসুম শুরুর আগে বল পরিবর্তনের নিয়মাবলি স্পষ্ট করল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। মূলত রাতের ম্যাচগুলিতে শিশিরের (Dew) প্রভাব এবং বোলারদের প্রতিকূলতার কথা মাথায় রেখেই এই নতুন গাইডলাইন জারি করা হয়েছে। তিনটি বিশেষ পরিস্থিতিতে বল পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা থাকবে অন-ফিল্ড আম্পায়ারদের হাতেই।
বল পরিবর্তনের তিনটি প্রধান ক্ষেত্র
বিসিসিআই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে বল পরিবর্তন করা সম্ভব: ১. যদি ম্যাচ চলাকালীন বল হারিয়ে যায় এবং তা খুঁজে পাওয়া না যায়। ২. যদি বলটি কোনো কারণে অকেজো বা খেলার অযোগ্য হয়ে পড়ে। ৩. যদি আম্পায়াররা মনে করেন বলটির অবস্থা স্বাভাবিক নেই।
রাতের ম্যাচের জন্য বিশেষ নিয়ম ও অধিনায়কের ভূমিকা
সন্ধ্যাবেলায় আয়োজিত ম্যাচগুলির ক্ষেত্রে ফিল্ডিং করা দলের অধিনায়কের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা বলা হয়েছে:
- ১০ ওভারের পর আবেদন: পরে বোলিং করা দলের অধিনায়ক চাইলে ইনিংসের ১০ ওভার অতিক্রান্ত হওয়ার পর বল পরিবর্তনের আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদনের সময়: ওভারের মাঝপথে কোনো আবেদন করা যাবে না। কেবল দুটি ওভারের মধ্যবর্তী সময়েই আম্পায়ারদের কাছে এই আর্জি জানানো যাবে।
- আম্পায়ারের পর্যবেক্ষণ: শিশির বা বৃষ্টির কারণে বল ভিজে গেলে অধিনায়ক আবেদন করতে পারেন, তবে আম্পায়াররা বলটি পরীক্ষা করে দেখার পরই চূড়ান্ত অনুমতি দেবেন।
নতুন বল বনাম ব্যবহৃত বল: কারিগরি নিয়ম
বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বল পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে ফিল্ডিং দল একদম নতুন বল পাবে।
পরিবর্ত বলের নিয়ম: হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়া বলটি যত ওভার ব্যবহৃত হয়েছিল, ঠিক তত ওভার (বা তার কাছাকাছি) খেলা হয়েছে এমন একটি ব্যবহৃত বলই পরিবর্ত হিসেবে দেওয়া হবে। বল পরিবর্তনের সময় আম্পায়ারদের অবশ্যই ব্যাটার এবং ফিল্ডিং দলের অধিনায়ককে বিষয়টি অবগত করতে হবে।
আম্পায়াররা ম্যাচের যেকোনো সময় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বল পরীক্ষা করতে পারেন। যদি তাঁদের মনে হয় বলটি খেলার উপযুক্ত অবস্থায় নেই, তবে তাঁরা সমসংখ্যক ওভার ব্যবহৃত অন্য একটি বল দিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেবেন।
আসন্ন আইপিএলে শিশিরের কারণে বোলাররা যাতে বাড়তি অসুবিধার মুখে না পড়েন, তার জন্যই এই নিয়ম অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

