আরজি করের নির্যাতিতার মা-বাবা পদ্ম শিবিরে, প্রার্থী পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: শুভেন্দু

আরজি করের নির্যাতিতার মা-বাবা পদ্ম শিবিরে, প্রার্থী পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব: শুভেন্দু

আরজি কর কাণ্ডের রেশ এবার আছড়ে পড়ল রাজনৈতিক ময়দানে। সোমবার সন্ধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিশ্চিত করেছেন যে, আরজি কর হাসপাতালে নিহত সেই চিকিৎসক-পড়ুয়ার মা ও বাবা ইতিমধ্যেই ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের প্রার্থী করা হবে কি না, সেই বল এখন পুরোটাই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কোর্টে।

সদস্যপদ গ্রহণ ও প্রার্থীর জল্পনা

গত কয়েকদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, আরজি করের নির্যাতিতার মা পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সেই জল্পনা উসকে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“নির্যাতিতার মা-বাবা ইতিমধ্যেই বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। তবে ওই পরিবারের কেউ প্রার্থী হবেন কি না, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।”

দলের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ও মতামত

শুভেন্দু জানান যে, এই বিষয়ে রাজ্য বিজেপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার— এই তিন জনই নিজেদের মতামত দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছেন। তবে সেই মতামতের নির্যাস এখনই জনসমক্ষে আনতে নারাজ বিরোধী দলনেতা। তাঁর মতে, এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে আগাম মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি আরও দাবি করেন:

  • বিজেপি প্রায় ৫,০০০ কর্মীর মতামত নিয়েছে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।
  • সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা তৈরি হবে।
  • দলের পক্ষ থেকে বা সামাজিক মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমীকরণ

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে সেই আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা স্তিমিত হলেও, নির্যাতিতার পরিবারকে রাজনৈতিক ময়দানে আনা হলে তা নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ‘সহানুভূতি’ ফ্যাক্টর ভোটবাক্সে কতটা কাজ করবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

কয়েক দিন আগেই নির্যাতিতার মা নিজে পানিহাটি আসনে লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এখন দেখার, দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই সংবেদনশীল বিষয়ে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। আপাতত গোটা রাজ্যের নজর এখন বিজেপির সেই আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকার দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.