অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পথে কমিশন: বিচারকদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ, নজর শুক্রবারের দিকে

অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পথে কমিশন: বিচারকদের নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ, নজর শুক্রবারের দিকে

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবারই প্রথম অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমিশন।

বিচারকদের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা

কমিশন সূত্রে খবর, তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার কাজে নিযুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ডিএসপি-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যে ৭০০-র বেশি কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এই দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পর কোনো বিচারকের বাড়তি নিরাপত্তার প্রয়োজন হলে, প্রশাসনকে তা অবিলম্বে জোগান দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


দ্রুত গতিতে নামের নিষ্পত্তি: একনজরে পরিসংখ্যান

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত অসম্পূর্ণ তালিকায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এবং কলকাতা হাই কোর্টের তত্ত্বাবধানে এই নামগুলির নিষ্পত্তির কাজ চলছে।

বর্তমান স্থিতিপরিসংখ্যান
বিবেচনাধীন মোট নাম৬০,০৬,৬৭৫
নিষ্পত্তি হয়েছে (বৃহস্পতিবার পর্যন্ত)২৫,৩৪,০০০
কাজে নিযুক্ত বিচারক সংখ্যা৭০০+
প্রতিদিনের নিষ্পত্তির গড় হারপ্রায় ২,০০,০০০

রাজ্যের ৭ হাজারের বেশি বুথ থেকে ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা কমিশনের হাতে এসে পৌঁছেছে। বাকি বুথগুলির রিপোর্ট শুক্রবারের মধ্যে চলে এলে ওই দিনই প্রথম অতিরিক্ত তালিকাটি প্রকাশ করা হবে। অন্যথায় তালিকা প্রকাশে সামান্য বিলম্ব হতে পারে।


ভোটাধিকার ও আইনি বিকল্প

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত জনের নামের নিষ্পত্তি হবে, তাঁদের প্রত্যেকের নাম দফায় দফায় অতিরিক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বিশেষ বিকল্প: অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের পরেও যাঁদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা নিজেদের দাবি নিয়ে বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানাতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ

পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তি না হয়, তবে আইনি জটিলতা এড়াতে পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে। তবে বর্তমানে কাজের যে গতি রয়েছে, তাতে ভোটের আগেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.