অনিল অম্বানীর বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির: পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩টি রাজ্যে অভিযান, তালিকায় রয়েছে ১টি স্থাবর সম্পত্তি

অনিল অম্বানীর বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ইডির: পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩টি রাজ্যে অভিযান, তালিকায় রয়েছে ১টি স্থাবর সম্পত্তি

আর্থিক তছরুপের মামলায় শিল্পপতি অনিল অম্বানী এবং তাঁর সংস্থা ‘রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই অম্বানী গোষ্ঠী’ (ADAG)-র বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৩টি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা অনিল অম্বানীর ৫৮১ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত বা অ্যাটাচ করল কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা।


১৩ রাজ্যে অভিযান: পশ্চিমবঙ্গও তালিকায়

ইডির পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়েছে, ‘রিলায়েন্স হোম ফাইন্যান্স লিমিটেড’ (RHFL) এবং ‘রিলায়েন্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স লিমিটেড’ (RCFL) সংক্রান্ত ঋণ প্রতারণা মামলার তদন্তেই এই পদক্ষেপ। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও গোয়া, কেরল, কর্নাটক, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, অন্ধ্র প্রদেশ এবং রাজস্থানে এই বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। মোট ৩১টি স্থাবর সম্পত্তি এই তালিকায় রয়েছে।


মামলার বর্তমান চিত্র: মোট সম্পত্তির পরিমাণ

এই মামলার গুরুত্ব বোঝাতে ইডি জানিয়েছে যে, বর্তমান বাজেয়াপ্তকরণের পর এই মামলায় মোট অ্যাটাচ করা সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬,৩১০ কোটি টাকায়। এর আগে গত মাসেই মুম্বইয়ের পালি হিলে অনিল অম্বানীর নিজস্ব ১৭ তলার বিলাসবহুল আবাসনটি ইডি তাদের হেফাজতে নিয়েছিল, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩,৭১৬ কোটি টাকা। মূলত যাতে এই সব সম্পত্তির মালিকানা বদল বা হস্তান্তর না করা যায়, সেই কারণেই এই আইনি পদক্ষেপ।


আদালতের কড়া অবস্থান ও তদন্তের গতি

অনিল অম্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তিনি তা অবৈধভাবে অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছেন। এই অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছিল, তদন্তে কেন এত দেরি হচ্ছে?

তদন্তের পর্যায়ক্রম:

  • জানুয়ারি ২০২৬: সুপ্রিম কোর্ট অনিল অম্বানীকে ‘শেষ সুযোগ’ দিয়ে নোটিস পাঠায়।
  • ৬ ফেব্রুয়ারি: ‘ফেমা’ (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগে রিলায়্যান্স পাওয়ার-এর দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি।
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি: অনিল অম্বানী সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে জানান যে, তিনি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়বেন না।

ভবিষ্যৎ পরিনতি

প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রতারণার অভিযোগে ইডি এবং সিবিআই যৌথভাবে এই তদন্ত চালাচ্ছে। যদিও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মা আদালতের নজরদারিতে এই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ইডির এই সাম্প্রতিক তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, শীর্ষ আদালতের উষ্মা প্রকাশের পর তদন্তের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.