দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মাঝে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সাফ জানান, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একদল মানুষ জনমানসে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন, যা প্রকারান্তরে দেশেরই ক্ষতি করছে। এই ধরনের ‘অশুভ শক্তি’ ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব যে ভারতের বাজারেও পড়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে এই সংকটকে পুঁজি করে যারা অসাধু কারবারে লিপ্ত হয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশ্যে মোদীর কড়া বার্তা:
- কঠোর পদক্ষেপ: মজুতদার এবং কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কোনও রকম আপস করা হবে না।
- রাজ্য সরকারগুলির ভূমিকা: প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি রাজ্য সরকারকে সক্রিয় হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অবৈধ মজুত রুখতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
- রাজনীতির ঊর্ধ্বে সমাধান: সংকটের সময়ে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ইরান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা
জ্বালানি সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার রাতেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম লাইফলাইন হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ থাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। ভারত চায় দ্রুত এই অচলাবস্থা কাটুক, যাতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
আতঙ্ক নয়, আত্মনির্ভরতায় ভরসা
প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। গত কয়েক দিনে দেশে এলপিজি উৎপাদন ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কোভিডকালের মতো এই সংকটও ভারত সফলভাবে অতিক্রম করবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন। মোদী বলেন:
“১৪০ কোটি ভারতবাসীর প্রতি আমার আস্থা আছে। বিশ্ব জানে, সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের জন্য ভারতের দিকে তাকাতে হবে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— উন্নত ভারত।”
সিলিন্ডার বুকিংয়ে নতুন নিয়ম ও মন্ত্রীর ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী যখন আশ্বস্ত করছেন, তখন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী সংসদে এলপিজি বণ্টন নিয়ে নতুন নির্দেশিকা ব্যাখ্যা করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কিছু সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে:
- শহরাঞ্চল: দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে ব্যবধান হতে হবে ন্যূনতম ২৫ দিন।
- গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকা: এই ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে।
যদিও এই নিয়মে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে, তবে সরকারের দাবি— জোগান ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশে খনিজ তেলের সংকট নেই, কেবল আমদানিকৃত এলপিজি-র ক্ষেত্রে হরমুজ় প্রণালীর জট সমস্যার সৃষ্টি করছে।

