প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বড়সড় সাফল্য পেল ভারত। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ভারতের ‘ব্রহ্মস’ সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবার যুক্ত হতে চলেছে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক ভাণ্ডারে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এই সংক্রান্ত একটি চুক্তি ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তির আর্থিক মূল্য ও সামরিক গুরুত্ব
যদিও ইন্দোনেশিয়া সরকার চুক্তির অঙ্ক নিয়ে সরকারিভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ থেকে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় যা কয়েক হাজার কোটি টাকা)।
- আধুনিকীকরণ: রিকার্ডো জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণের লক্ষ্যেই ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র বেছে নিয়েছে জাকার্তা।
- বিবিধ সংস্করণ: ‘ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস লিমিটেড’-এর তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের তিনটি সংস্করণ রয়েছে যা যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং স্থলভাগ— এই তিন মাধ্যম থেকেই নিক্ষেপ করা সম্ভব।
কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রহ্মস?
২০২২ সালে ফিলিপিন্স ৩৭ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে ভারতের সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তিতে সই করেছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার পিছনে মূল কারণ হলো দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের একাধিপত্য ও আগ্রাসন।
১. নাইন-ড্যাশ লাইন বিতর্ক: দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের কাল্পনিক ‘নাইন-ড্যাশ লাইন’-এর অন্তর্ভুক্ত দ্বীপ ও এলাকাগুলিকে বেজিং নিজেদের বলে দাবি করে। এর ফলে ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলির সঙ্গে চিনের দীর্ঘদিনের সীমান্ত সংঘাত রয়েছে। ২. প্রতিরক্ষা কবচ: শব্দের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি গতিসম্পন্ন এবং লক্ষ্যভেদে অত্যন্ত নিখুঁত হওয়ায় ‘ব্রহ্মস’ চিনা আগ্রাসন মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী ‘ডিটারেন্ট’ বা প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
ব্রহ্মস-এর প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব
ব্রহ্মস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিয়ে নিচু উচ্চতা দিয়ে উড়ে যেতে সক্ষম। এর গতিবেগ এবং বিধ্বংসী ক্ষমতার কারণে এটি প্রতিরক্ষা বাজারে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ এবং বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের উত্থানকে আরও মজবুত করল।

