ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ বিতর্ক: কমিশন বনাম ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সংঘাত তুঙ্গে

ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ বিতর্ক: কমিশন বনাম ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন সংঘাত তুঙ্গে

রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ (Under Adjudication) হিসেবে চিহ্নিত হওয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন সংঘাতে জড়াল নির্বাচন কমিশন এবং ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসারদের সংগঠন। ভারতের বিশ্বকাপজয়ী প্রমিলা ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নাম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হলেও, বর্তমানে তা প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে।

বিতর্কের মূলে রিচা ঘোষের নাম

রবিবার নির্বাচন কমিশন এক্সে (সাবেক টুইটার) জানায়, রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা হয়েছে। ক্রিকেটার রিচা ঘোষের নাম কেন এই তালিকায়, তার ব্যাখ্যায় কমিশন জানায়:

  • খসড়া তালিকায় রিচাকে ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
  • শুনানিতে রিচার এক আত্মীয় প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) বা এইআরও (AERO) তা নিষ্পত্তি করেননি।
  • এর দায়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে কমিশন।

পাল্টা সরব ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স সংগঠন

কমিশন আধিকারিকদের দায়ী করায় সোমবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের সংগঠন। সমাজমাধ্যমে তাঁদের পাল্টা দাবি: ১. অসত্য অভিযোগ: ইআরও বা এইআরও-দের ওপর দোষ চাপানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ২. পদ্ধতিগত জটিলতা: আধিকারিকরা নিরলস কাজ করে নথি আপলোড করলেও, রোল পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো পর্যবেক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে কোনো মন্তব্য ছাড়াই ফাইল ফেরত পাঠিয়েছেন। ফলে বিপুল সংখ্যক নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘বিচারাধীন’ শ্রেণিতে চলে গিয়েছে। ৩. মনোবল হরণ: দিনরাত এক করে কাজ করার পর এভাবে আধিকারিকদের অবমাননা করা তাঁদের মনোবলে আঘাত দিচ্ছে।

“সংগঠনের পোস্টে যা বলা হয়েছে, তাতে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সরকারি আধিকারিকরা হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন, অথচ দায় চাপানো হচ্ছে তাঁদের ওপরই।” — সৈকত আশরফ আলি, সাধারণ সম্পাদক, ডব্লিউবিসিএস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন।

কমিশনের হুঁশিয়ারি ও ‘লক্ষ্মণরেখা’ স্মরণ

সংগঠনের এই বার্তার পর পাল্টা কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর। কমিশন পাল্ট পোস্টে জানায়:

  • মুখপাত্রের ভূমিকা: নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা আধিকারিকদের কোনো সংগঠনের হয়ে মুখপাত্রের ভূমিকা নেওয়া অনুচিত।
  • সতর্কবার্তা: সরকারি কর্মচারীদের ‘লক্ষ্মণরেখা’ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে ৬০ লক্ষাধিক ভোটারের ভাগ্য ঝুলে রয়েছে এই ‘বিচারাধীন’ তালিকায়। একদিকে কমিশন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আধিকারিকদের চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে আমলারা পরিকাঠামো ও পর্যবেক্ষকদের দ্বিমতকে দায়ী করছেন। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন এই প্রশাসনিক সংঘাত আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.