প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ: পাকিস্তানের ঘুম ওড়াতে মেরঠে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক ড্রোন এয়ারবেস

প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড বরাদ্দ: পাকিস্তানের ঘুম ওড়াতে মেরঠে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম অত্যাধুনিক ড্রোন এয়ারবেস

ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৭.৮ লক্ষ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দের পরই এবার বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। উত্তরপ্রদেশের মেরঠে তৈরি হতে চলেছে ড্রোন এবং রিমোটলি পাইলটেড এয়ারক্রাফ্ট (RPA)-এর জন্য দেশের প্রথম ডেডিকেটেড রানওয়ে ও বিমান ঘাঁটি। প্রায় ৪০৬ কোটি টাকার এই মেগা প্রজেক্টটি সীমান্ত নজরদারি এবং যুদ্ধকৌশলে ভারতের সক্ষমতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আধুনিকীকরণে জোর: ৯০০ একর জুড়ে বিস্তৃত রণকৌশল

গত ১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন লোকসভায় যে বাজেট পেশ করেছিলেন, তার মূল ফোকাস ছিল সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই মেরঠে ৯০০ একরেরও বেশি জায়গা জুড়ে তৈরি হচ্ছে এই অত্যাধুনিক এয়ারবেস।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO) ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্সি পরিষেবার দরপত্র আহ্বান করেছে। এই ঘাঁটিটি মূলত উচ্চ গতির ড্রোন এবং বিশেষ পরিবহণ বিমান পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

এই বিমান ঘাঁটিটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যা ভবিষ্যতে শত্রু শিবিরের জন্য ত্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়াবে:

  • বিশাল রানওয়ে: এখানে থাকছে ২,১১০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৫ মিটার প্রশস্ত রানওয়ে।
  • উন্নত প্রযুক্তি: রানওয়েতে থাকছে ICAO CAT-II অনুবর্তী আলো এবং আধুনিক ন্যাভিগেশনাল সিস্টেম, যা ঘন কুয়াশা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় ড্রোন ও বিমান চলাচলে সাহায্য করবে।
  • বিশাল হ্যাঙ্গার: ড্রোন ও বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৬০ বাই ৫০ মিটার মাপের দু’টি বিশালাকার হ্যাঙ্গার তৈরি করা হচ্ছে।
  • অপারেশনাল ক্ষমতা: এই ঘাঁটি থেকে বছরে প্রায় ১,৫০০টি আরপিএ (RPA) অপারেশন চালানো সম্ভব হবে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৪টি ড্রোন এখান থেকে উড়াল দেবে।

অপারেশন সিঁদুরের শিক্ষা ও ড্রোনের গুরুত্ব

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অভিজ্ঞতায় ভারতীয় সেনা বুঝতে পেরেছে যে যুদ্ধক্ষেত্রে মানবহীন সিস্টেম বা ড্রোন কতটা কার্যকরী হতে পারে। রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং সেনাদের প্রাণের ঝুঁকি কমাতে ড্রোন এখন অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। মেরঠের এই ফেসিলিটি থেকে HALE (High Altitude Long Endurance) ড্রোন পরিচালনা করা হবে, যা দীর্ঘ সময় ধরে অনেক উঁচুতে থেকে শত্রুর গতিবিধির ওপর নজর রাখতে সক্ষম।

প্রকল্পের সময়সীমা

পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৮৫ মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে:

  1. বিস্তারিত পরিকল্পনা (DPR): প্রথম ৭ মাস।
  2. নির্মাণ তত্ত্বাবধান: ১৮ মাস।
  3. ত্রুটি সংশোধন ও রক্ষণাবেক্ষণ: পরবর্তী ২৪ মাস ও ৩৬ মাসের বিশেষ নজরদারি।

পরিশেষ: মেরঠের এই কৌশলগত বিমান ঘাঁটিটি ভারতের আকাশপথের নজরদারি ব্যবস্থাকে কয়েক গুণ শক্তিশালী করবে। এটি কেবল একটি পরিকাঠামো নয়, বরং প্রযুক্তি-নির্ভর আধুনিক সেনাবাহিনীর পথে ভারতের এক দৃঢ় পদক্ষেপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.