ভিন্‌ধর্মে প্রেম, উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে যুবককে পিটিয়ে খুন, হত্যা তরুণীকেও! পুঁতে দেওয়া হল দেহ! সম্মানরক্ষার্থে খুন?

ভিন্‌ধর্মে প্রেম, উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে যুবককে পিটিয়ে খুন, হত্যা তরুণীকেও! পুঁতে দেওয়া হল দেহ! সম্মানরক্ষার্থে খুন?

উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে তথাকথিত ‘সম্মানরক্ষার’ নামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল গগন নদীর তীর। তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হলো এক তরুণ ও তরুণীর নিথর দেহ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভিন্নধর্মী প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরেই তরুণীর পরিবার এই ‘অনার কিলিং’-এর পথ বেছে নিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার ভিন্‌ধর্মের ওই তরুণ তাঁর প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যান। অভিযোগ, তরুণীর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এর পরপরই উন্মত্ত পরিবার ওই তরুণের ওপর চড়াও হয়। প্রেমিককে বাঁচাতে তরুণী এগিয়ে এলে তাঁকেও নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের অমানবিক প্রহারে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুগলের।

তথ্য লোপাটের চেষ্টা

হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা তৎপর হয়ে ওঠে। খুনের প্রমাণ মুছতে রাতের অন্ধকারেই দু’জনের দেহ সরিয়ে ফেলে তারা। গগন নদীর ধারে নির্জন স্থানে গর্ত খুঁড়ে দেহ দুটি পুঁতে দেওয়া হয়।

তদন্ত ও উদ্ধার

তরুণ বাড়ি না ফেরায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ তরুণের প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতে পারে। পুলিশ তরুণীর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গেলে দেখা যায় তিনিও নিখোঁজ। এতেই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তরুণীর পরিবারের সদস্যদের আটক করে পুলিশ।

অপরাধ স্বীকার ও গ্রেফতার

পুলিশি জেরার মুখে অভিযুক্তরা ভেঙে পড়েন এবং খুনের কথা স্বীকার করেন। তাঁরা জানান, মারধরের ফলে দু’জনের মৃত্যু হলে তাঁদের দেহ নদীর ধারে পুঁতে দেওয়া হয়েছে। পুলিশি বয়ান অনুযায়ী, এই নৃশংস ঘটনার মূল পাণ্ডা তরুণীর দাদারা।

পুলিশি তৎপরতা:

  • অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গগন নদীর তীর থেকে মাটি খুঁড়ে দেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।
  • মৃতদেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
  • তরুণের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তরুণীর দুই দাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.