গম্ভীর-কোহলি সম্পর্ক, বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় কি রো-কো, ভারতীয় ক্রিকেটে সবচেয়ে আলোচিত দুই প্রশ্নের জবাব দিলেন ব্যাটিং কোচ

গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে বিরাট কোহলির সম্পর্ক কেমন? কোহলি এবং রোহিত শর্মা কি আগামী এক দিনের বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় রয়েছেন? নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের ম্যাচের আগে ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রধান এই দুই প্রশ্নেরই জবাব দিলেন ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক।

মঙ্গলবার রাজকোটে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন কোটাক। তাঁকে পড়তে হয় এই মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে অস্বস্তিকর দু’টি প্রশ্নের সামনে। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে কোচ গম্ভীরের সঙ্গে কোহলি এবং রোহিতের মতপার্থক্য তীব্র হয়। কোহলি কোচের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। রোহিতের সঙ্গে গম্ভীরের নাকি একাধিক বার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। তার পর দেশে ফিরে গত আইপিএলের মাঝে দু’জনেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নেন।

কোচের সঙ্গে দলের দুই সিনিয়র ব্যাটারের সম্পর্ক ঠিক কেমন? প্রশ্ন করা হয় ব্যাটিং কোচকে। জবাবে কোটাক বলেছেন, ‘‘সমাজমাধ্যমে অনেক কিছু দেখা যায়। সেগুলোকে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিই না। বেশির ভাগ সময় আমি ওদের সঙ্গেই থাকি। কোহলি এবং রোহিত সব সময় নিজেদের অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নেয়। স্বাভাবিক কথাবার্তাই হয়। আমি তো অন্যরকম কিছু দেখিনি। সব কিছুই বেশ ইতিবাচক।’’ কোটাক বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোচের সঙ্গে দুই সিনিয়র ব্যাটারের কোনও দূরত্ব নেই।

কোহলি-রোহিতকে বাদ দিয়ে এক দিনের বিশ্বকাপের কথা ভাবা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ। এ প্রসঙ্গে কোটাক বলেছেন, ‘‘কোহলি এবং রোহিত অবশ্যই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে। এখন ওরা ক্রিকেটের একটা ফরম্যাটেই খেলে। ওরা চায় এই ফরম্যাটে ভারত সব সময় জিতুক। ওরা ভারতীয় দলের জয় ছাড়া কিছু বোঝে না।’’ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘ওদের দু’জনের প্রচুর অভিজ্ঞতা। মাঠে বাকিদের ওরা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করে। দলের মধ্যেও নানা রকম মতামত দেয়। কোচ গম্ভীর বা আমার সঙ্গেও কথা বলে। এক দিনের ক্রিকেটে দলের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয় আমাদের মধ্যে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপের সময় আমাদের পরিকল্পনা কেমন হওয়া উচিত, সে সব নিয়েও কথা হয়।’’

প্রথম ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডের ৩০০ রান করা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন কোটাক। তাঁর মতে এক দিনের ক্রিকেটে এই রান এখন স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘টি-টোয়েন্টি এবং এক দিনের ক্রিকেটের মধ্যে এখনও অনেক পার্থক্য রয়েছে। এখন প্রায় সব এক দিনের ম্যাচেই ৩০০-র কাছাকাছি রান ওঠে। কিছু ক্ষেত্রে বেশিও হয়। তাই রান তাড়া করতে পারাটা এখন গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়ে গেলে আমরা আরও বেশি এক দিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। তখন সব কিছু ঠিক করে নিতে হবে। বিশেষ করে ৩৪ ওভারের পর একটি বলে খেলার যে নিয়ম তৈরি হয়েছে, সেটা কী করে আরও ভাল ভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটা ঠিক করতে হবে।’’

প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশা মতো পারফর্ম করতে পারেননি রবীন্দ্র জাডেজা। দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডারকে নিয়ে চিন্তিত নন কোটাক। ভারতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বলেছেন, ‘‘ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার আমি কেউ নই। এটুকু বলতে পারি জাডেজার ফিটনেস নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। এখনও ভাল পারফর্ম করছে। ক্রিকেটকে ও বেশ উপভোগ করে। যতক্ষণ এক জন ক্রিকেটার পারফর্ম করছে এবং ক্রিকেট উপভোগ করছে, ততক্ষণ যে কেউ ভারতের হয়ে খেলতে চাইবে। দলের জন্য ভাল কিছু করার কথাও ভাববে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.