১৯৮৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাকিস্তানের মাটিতে যখন সচিন তেন্ডুলকরের আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটেছিল, তখন তাঁর পাশে ছায়ার মতো ছিলেন দাদা অজিত তেন্ডুলকর। এবার ভারতীয় ক্রিকেটে আরও এক বিস্ময় বালকের উত্থান ঘটতে চলেছে। সচিনের চেয়েও কম বয়সে ভারতীয় জাতীয় দলে ডাক পেয়েছে বৈভব সূর্যবংশী। আসন্ন ইংল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড সফরের ভারতীয় স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছে সে। আর এই অতি অল্প বয়সী ক্রিকেটারের মানসিক স্বস্তি ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এক নজিরবিহীন বিশেষ ব্যবস্থা করতে চলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। সফর চলাকালীন বৈভবের সঙ্গে তার বাবা-মাকেও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
দেশের জার্সি গায়ে এটিই বৈভবের প্রথম বিদেশ সফর। এর আগে অবশ্য দেশের মাটিতে যুব দলের হয়ে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তবে জাতীয় দলের চাপ এবং পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই পরিস্থিতিতে বৈভব যাতে কোনো রকম মানসিক চাপে না পড়ে এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, সেই কারণেই এই সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত।
বিসিসিআই-এর বিশেষ পদক্ষেপ
বিসিসিআই-এর এই মানবিক ও পেশাদার সিদ্ধান্তের কথা সম্প্রতি ‘স্পোর্টস্টার’ ওয়েবসাইটকে নিশ্চিত করেছেন বোর্ড সচিব দেবজিৎ শইকীয়া।
“যে হেতু বৈভবের বয়স অনেকটাই কম, তাই আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড সফরে ওর সঙ্গে বাবা-মাকেও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। নতুন পরিবেশের সঙ্গে বৈভবকে মানিয়ে নিতে ওরাই সাহায্য করবে। বৈভবের বাবা-মার এই সফরের সমস্ত খরচ বহন করবে বোর্ড।” — দেবজিৎ শইকীয়া, বোর্ড সচিব
বর্তমানে শ্রীলঙ্কা সফরে থাকা বৈভবের ওপর এখন থেকেই কড়া নজর রাখছে বিসিসিআই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তীব্র চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা এই বয়সে সাধারণত কারও থাকে না। তাই বোর্ড চায় বৈভব যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও মানসিক সমর্থন পায়, যাতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পা রাখতে তার কোনো অসুবিধা না হয়।
‘ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের পোস্টার বয়’
বৈভবের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার ছোটবেলার কোচ মণীশ ওঝা। তিনি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি বৈভবের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী।
কোচ মণীশ ওঝা বলেন:
- “বৈভব এবং ওর পরিবারকে অনেক শুভেচ্ছা। এটা আমাদের সকলের কাছে অত্যন্ত গর্বের এক মুহূর্ত। কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের পর ভারতীয় দলে এত কম বয়সে কেউ নির্বাচিত হল।”
- “কোচ হিসাবে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি বিসিসিআই এবার ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের ‘পোস্টার বয়’ পেয়ে গিয়েছে। বৈভব সবার প্রত্যাশা পূরণ করার মতো পারফরম্যান্স করবে বলেই আমার বিশ্বাস।”
উল্লেখ্য, বৈভবের এই প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছেন খোদ প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরও। তাঁর মতে, বৈভব নিজের প্রতিভার জোরেই দলে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। এখন দেখার, ক্রিকেটের মক্কা ইংল্যান্ডের মাটিতে এই তরুণ তুর্কি ব্যাট হাতে কেমন সাড়া জাগাতে পারে।

