কানাডার সঙ্গে আমেরিকার বাণিজ্যিক ও শুল্ক-সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঠিক কোন কোন পণ্যের ওপর এই বর্ধিত শুল্ক কার্যকর করা হবে এবং কবে থেকে তা প্রযোজ্য হবে, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণা ও লক্ষ্যবস্তু
সোমবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর একটি পোস্টে শুল্ক বৃদ্ধির এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প জানান, এই ৫০ শতাংশ বর্ধিত আমদানি শুল্ক মূলত প্রযোজ্য হবে:
- প্রধান পণ্যসামগ্রী: সব ধরনের গাড়ি, ছোট ও বড় ট্রাক এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ।
- অন্যান্য সামগ্রী: ইস্পাত বা স্টিল।
আমেরিকায় যে সমস্ত সংস্থা কানাডা থেকে এই সমস্ত পণ্য আমদানি করে, তাদের এবার থেকে অতিরিক্ত শুল্ক বহন করতে হবে। তবে এই অতিরিক্ত শুল্কের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার একটি পথও বাতলে দিয়েছেন ট্রাম্প। উৎপাদকদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘আমেরিকাতেই উৎপাদন করুন, তাহলে আর কোনো শুল্কই দিতে হবে না।’’ আগামী বছর অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন হারে কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্য কাহিনী
গত জুলাই মাস থেকেই আমেরিকা এবং কানাডার মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছিল। কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। গত তিন দিন ধরে চলা লাগাতার বাণিজ্য আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। এর পরেই হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে কানাডার বিরুদ্ধে এই কঠোর শুল্ক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়। এর আগে কানাডা থেকে আমেরিকায় আমদানিকৃত পণ্যের মাত্র ৫ শতাংশের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল (যার মধ্যে আইস হকির কাঠের স্টিকসহ কিছু নির্দিষ্ট পণ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল)। তবে এবার তার পরিধি আরও অনেক বাড়িয়ে দিল ওয়াশিংটন।
কানাডার প্রতিক্রিয়া ও পালটা পদক্ষেপ
গত শুক্রবার রাতে আমেরিকার সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি জানান, আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমেরিকা শর্তাবলিতে কিছু অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক পরিবর্তন আনে, যা কানাডার জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী।
এর পরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন এই নীতির ‘ডলারে ডলারে’ হিসাব নেওয়া হবে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কানাডা সরকারও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের ঘোষণা করে। কানাডার বাজারে দুগ্ধজাত পণ্য, ইস্পাত, গৃহস্থালীর সরঞ্জাম, কৃষিজ যন্ত্রপাতি এবং কাগজের মতো মার্কিন পণ্য বিক্রি করতে গেলে এবার অতিরিক্ত শুল্ক গুনতে হবে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সাফ জানিয়েছেন, ‘‘আক্রমণের শিকার হলেই যুদ্ধ শুরু হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’’ আর কানাডার এই পালটা বার্তার ঠিক পরেই সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকেও শুল্কের খাঁড়া নামানোর নতুন হুঁশিয়ারি এল।

