পূর্বাভাস মিলিয়েই বুধবার দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন শেষে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বৃষ্টিতে ভিজল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশ। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে ‘লাল সতর্কতা’ (Red Alert) জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
ঝড়-বৃষ্টির দাপট: হাওয়া অফিসের রাত ৮টার বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার রাতে কলকাতায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। সন্ধ্যার পর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে মুষলধারে বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টির জেরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে কমে ৩২.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থিতু হয়েছে।
ভোটগ্রহণে বিঘ্ন: বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের ভোটদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তবে রাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় ভোটার এবং নির্বাচনী কর্মীদের যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ বা জলাশয়ের কাছে না থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
কেন এই অকাল দুর্যোগ? আবহাওয়াবিদদের মতে, এই দুর্যোগের নেপথ্যে রয়েছে একাধিক বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি:
- ঘূর্ণাবর্ত: উত্তরবঙ্গের হিমালয় পাদদেশ সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ০.৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে।
- নিম্নচাপ অক্ষরেখা: উত্তর হরিয়ানা থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে গিয়েছে।
- জলীয় বাষ্প: এই সিস্টেমগুলির প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যা বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি ও মৎস্যজীবীদের সতর্কতা: শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ারে আগামী কয়েক দিন ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের আগামী ৩ মে পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়-বৃষ্টির এই দাপট আরও কয়েক দিন চলতে পারে বলে মনে করছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

