প্রখ্যাত বলিউড পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘লভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির শুটিং সেটে এক ৪২ বছর বয়সি কর্মীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিনোদন দুনিয়ায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুম্বইয়ের অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যেই পরিচালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে। মুম্বইয়ের এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই ফের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুর তদন্তের গতিপ্রকৃতি।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে শুটিং চলাকালীন রাহুলের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রজগৎ। সেই ঘটনার পর আড়াই-তিন মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি কতদূর, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি স্টুডিয়োপাড়ায়।
গাফিলতির তির প্রযোজনা সংস্থার দিকে, রুজু হয়েছে মামলা
রাহুলের মৃত্যুর পর শুটিং সেটে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একজোট হয়েছিল কলকাতার আর্টিস্ট ফোরাম, ইম্পা (EIMPA) এবং ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ নামক যে প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিকে রাহুল অভিনয় করছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় স্বয়ং রিজেন্ট পার্ক থানায় ওই সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। পরে রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের করা এফআইআর-এর সঙ্গে এটি আইনি পরামর্শ মেনে যুক্ত করা হয়। এই ঘটনার জেরে ‘চিরসখা’ এবং ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ নামক দুটি মেগা ধারাবাহিকের শুটিং রাতারাতি বন্ধ হয়ে যায়।
পিএমও-র নির্দেশ ও সিআইডি-র হাতে তদন্তভার
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, ওড়িশা পুলিশের প্রাথমিক নিষ্ক্রিয়তার পর ‘অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ওড়িশা সরকার এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে (PMO) দ্রুত তদন্তের আবেদন জানায়। পিএমও-র তরফে ওড়িশা সরকারকে এই তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, এ রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের পর আশার আলো দেখছেন শিল্পীরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দিয়েছেন। আর্টিস্ট ফোরামের তরফেও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করার আর্জি জানানো হয়েছে। লালবাজারের এক উচ্চপদস্থ কর্তার মতে, তদন্তের আইনি অগ্রগতি নিয়ে তাঁরা প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দিচ্ছেন।
সহ-অভিনেতা ও সতীর্থদের প্রতিক্রিয়া
তালসারিতে রাহুলের সঙ্গে শুটিং করতে যাওয়া সহ-অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অম্বরীশ ভট্টাচার্য দুর্ঘটনার আগেই কলকাতায় ফিরে এসেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,
“তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়ে আছে, আমরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে। আড়াই-তিন মাস হয়ে গেল কোনো খবর পাচ্ছি না, খুব খারাপ লাগছে। এর দ্রুত কিনারা হওয়া দরকার।”
তবে অভিনেতা অম্বরীশ ভট্টাচার্য কিছুটা আশাবাদী। তাঁর মতে, তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয় এবং উচ্চমহল এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অন্যদিকে, রাহুলের মৃত্যুর সুবিচারের দাবিতে কলকাতার রাজপথে আন্দোলনে নামা অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র বলেন, “আমরাও জানতে চাইছি তদন্তের অগ্রগতি কতদূর হলো। রাহুলের পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পুলিশ নিশ্চয়ই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।” সব মিলিয়ে, টলিউডের শিল্পী মহল এখন সিআইডি এবং সরকারের চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকেই চাতক পাখির মতো চেয়ে রয়েছে।

